ফিতনা সৃষ্টি কিভাবে হয়, ফিতনা মানে কি

By | May 27, 2023
ফিতনা সৃষ্টি কিভাবে হয়, ফিতনা মানে কি

এই পোষ্টে ফেতনা অর্থ কি, ইসলামে ফিতনা সৃষ্টি কিভাবে হয় জানতে পারবেন। আশা করি ফিতনা মানে কি ও ফেতনার সম্পর্কে বিশদ আলোচনা পাবেন।

ফেতনা অর্থ কি

“ফেতনা” বাংলা ভাষায় একটি শব্দ যা অন্যকে সমস্যা সৃষ্টি করা বা নির্বাচনে প্রভাব ফেলা বোঝায়। এটি সাধারণত অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য বা আপত্তিজনক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ফেতনা কার্যকলাপ হতে পারে যেমন দুষ্ট কৌশল, আলসতা, দলবদ্ধতা, জালসাজি এবং অসম্মতি ফলস্বরূপ কিছু নির্দিষ্ট করে কোন কাজ করা হয়। ফেতনা করা ব্যক্তিরা সাধারণত লোকজন বা সমাজ কল্যাণের জন্য কিছু সুস্থ করতে না পারে এবং এটি সাধারণত দুর্ভাগ্যকর ফল উঠতে পারে।

ফেতনা ব্যবহার করা হলে সামনে আসতে পারে আলোচনা, নিন্দা বা অন্য কিছু যা ব্যক্তিদের সম্মান ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ২) উল্লিখিত আয়াতে ‘য়ুফতানুন’ শব্দটি ‘ফিতনা’ থেকে এসেছে, যা পরীক্ষার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর কাছে ফিতনা হত্যা অপেক্ষা মারাত্মক। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৭)

ইসলামে ফিতনা সৃষ্টি কিভাবে হয়

বর্তমানে রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত কারণে মুসলমানরাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। একে অপরকে দমানোর জন্য সব পদক্ষেপই গ্রহণ করে বসে। রাসুল (সা.) মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে এমন বিবাদে জড়ানো ফিতনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিদ্ধেশমুলক ফেতনা

ওয়াজে প্রায়ই অন্য ধর্মের বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা হয়। অন্য ধর্মের বিষয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়া হয়। অথচ আল্লাহ ঈমানের দাবিদার প্রতিটি মুসলিমকে নির্দেশ দিয়েছেন পরমতসহিষ্ণুতা ও পরধর্মের বা মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা আল্লাহর বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহকে গালি দেবে, আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের কার্যকলাপ সুশোভনীয় করে রেখেছি, অতপর সবাইকে একদিন তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, তারপর তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা দুনিয়ার জীবনে কে কী কাজ করে এসেছে,’ (সূরা আনআম, আয়াত ১০৮)।

হিকমা প্রয়োগ করে সবচেয়ে সুন্দর কথা দ্বারা দিনের দাওয়াত দিতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি মানুষকে দাওয়াত দিন আপনার রবের পথে হিকমত ও উত্তম ওয়াজের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে তর্ক করুন উত্তম পদ্ধতিতে। নিশ্চয়ই আপনার রব, তার পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়েছে, সে সম্বন্ধে তিনি বেশি জানেন এবং কারা সৎপথে আছেন, তাও তিনি ভালোভাবেই জানেন,’ (সুরা নাহল, আয়াত ১২৫)।

আহলে হাদিস কি ফেতনাঃ

ইসলাম নিয়ে যারাই বেশি বাড়াবাড়ি করবে তারাই ফেতনা সৃষ্টি করল। ইসলাম হলো সরল পথ, প্রতিহিংসা দিয়ে ইসলামের দাওয়া দেওয়া যায় না। ইসলামে ভাল আচরণ দিয়ে নিজের ধর্ম দেখাতে হবে এবং মানুষকে আকর্ষণ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় ইসলামিক বিশ্ব বিদ্যালয় আল আজহার, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ ভর্তি হতে হলে বাধ্যতামূলক ভাবে একজন ছাত্রকে যেকোন একটি মাযহাব মানতে হয়। কারণ তারা বিশ্বাস করে কেউ যদি কোন একটি মাযহাবকে অনুসরণ না করে তাহলে সে ইসলামে ফেতনা সৃষ্টি করবে।

আমরা জানি অভিভাবক ছাড়া একজন মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়, ঠিক তেমনি ইসলামকে বুঝার জন্যও অভিভাবক দরকার হয়। যদি কোন অভিভাবক না থাকে তাহলে সে দিশেহারা হয়ে যাবে।

আমরা দেখে থাকি অনেক নাস্তিক কোরআন হাদিস পড়ে কিন্তু তারা ইসলাম তারপরও বিশ্বাস করে না। কারণ হলো তারা নিজে নিজে কোরআন হাদিস পড়েছে, কোন সহি আলেমকে বা কোন আল্লাহর ওলীকে অনুসরণ করেনি। তাই তারা যতই কোরআন হাদিস পড়ুক তারপরও তারা বিশ্বাস আনতে পারেনি।

নিজে নিজে কোরআন হাদিস জানতে পারবে না?

কেউ যদি নিজে নিজে কোরআন হাদিস জানতে চায় তাহলে অবশ্যই পারবে। তবে নিজে নিজে সবাই জানতে পারবে এটা প্রচার করা একটা মস্ত বড় ভন্ডামী, কারণ কেউ যখন বলে আমি মাযহাব মানি না, আমি নিজে নিজে কোরআন হাদিস মানি, আমি আহলে হাদিসের লোক। তখন দেখা যায় সে কিন্তু আহলে হাদিসের ইমামদের অনুসরণ করছে সে কিন্তু নিজে নিজে কোরআন হাদিস অনুসরণ করছে না।

কেউ যদি মাযহাব মানি না প্রচার করে আর নিজে নিজে কোরআন হাদিস জানে তাহলে শুধুমাত্র সে নিজেই জানতে পারবে। কিন্তু সে যখনই কোন দল গঠন করবে আর তার দেখানো পথ অন্যকে চলতে বলবে তখনই সে আরেকটি নতুন মাযহাব তৈরি করলো। তারা তখন যতই বলুক আমি কোনো মাযহাবের না, তবুও সে কিন্তু মাযহাবই তৈরি করলো তারমত করে। কারণ মাজহাব অর্থ হলো মত, অভিমত।

আখিরী জামানায় ফেতনা কি?

১. গুনাহর পরিমাণ বেড়ে যাবে। ২. আমানতের খেয়ানত করবে। অর্থাৎ তাদের কাছে আমানতরূপে যা কিছু রাখা হবে তা তারা আত্মসাৎ করবে। ৩. সুদের লেনদেন করবে। ৪. মিথ্যা কথা বলাকে হালাল মনে করবে। ৫. সামান্য বিষয়ে রক্তপাত করবে এবং অন্যের প্রাণ সংহার করবে। ৬. উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণ করবে। ৭. দীন বিক্রি করে দুনিয়া উপার্জন করবে। ৮. আত্মীয়দের সঙ্গে বাজে আচরণ করবে। ৯. ইনসাফ উঠে যাবে। ১০. মিথ্যা সত্যতে পরিণত হবে। ১১. জুলুম-অত্যাচার ব্যাপকরূপ লাভ করবে। ১২. তালাকের আধিক্য হবে। ১৩. দুর্নীতিপরায়ণ লোকদের সেলাক মনে করা হবে। ১৪. সেলাকদের দুর্নীতিপরায়ণ মনে করা হবে। ১৫. জানমালের নিরাপত্তা কমে যাবে। ১৬. মসজিদকে কারুকার্যময় করা হবে। ১৭. হৃদয়গুলো উজাড় হবে। ১৮. জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে। ১৯. মানুষ নিজের পিতার অবাধ্যতা করবে। ২০. এবং মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে। ২১. বন্ধুদের ক্ষতি করতে দ্বিধা করবে না। ২২. স্ত্রীর আনুগত্য করবে। ২৩. বদকার লোকেরা মসজিদে শোরগোল করবে। ইত্যাদি আরো অনেক কিছু আছে তবে কিছু সংখ্যক তুলে ধরা হলো।

আরো জানুন-

তথ্যসূত্রেঃ

banglatribune.com/columns/476945/ইসলামি-ওয়াজ-নজরদারি-বিতর্ক

kalerkantho.com/print-edition/islamic-life/2020/03/07/882706

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *