পীর আউলিয়া আল্লাহর দল কুরআন হাদিস থেকে দলিল

By | April 13, 2023
পীর আউলিয়া আল্লাহর দল কুরআন হাদিস থেকে দলিল

এই পোষ্টে পীর আউলিয়া আল্লাহর দল কুরআন হাদিস থেকে দলিল জানতে পারবেন। আশা করি আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর পেয়ে যাবেন।

রাসুল সাঃ তিঁনির উম্মতের মধ্যে ৭৩টি বিভক্ত তৈরি হবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। এরমধ্যে একটি দল হবে যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের পূর্ণ অনুসরণ করবে তারাই হবে প্রকৃত আল্লাহর দল এবং সত্য সঠিক ইসলামিক দল, এরকমই ভবিষ্যতবাণী ছিল।

আমাদের মধ্যে যত বিভক্ত হবে সবাই যার যার জায়গা থেকে নিজেকে সঠিক বলে ভাববেন বা প্রচার করবেন এটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমাদেরকে বুঝে ও চিনে নিতে হবে কারা আল্লাহর দল? কারা নবীজি সাঃ কে ও সাহাবিদেরকে পূর্ণ অনুসরণ করে।

কারা আল্লাহর দল?

আল্লাহর দলই সফলকাম হবে দুনিয়াতে এবং আখিরাতে। কারন,

মহান আল্লাহ বলেছেনঃ

*** “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার। আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।” -সূরা ইমরানঃ আয়াতঃ ২:১০৩-১০৪।

কুরআন ও সহীহ সূন্নাহর উপর যে দল প্রতিষ্ঠিত থাকবে বা অটল থাকবে সেই দলই হল সফলকাম। আর এরাই হল আল্লাহর দল। যেমনঃ

মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ

*** “যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে। ” -সূরা মুজাদালাহঃ আয়াতঃ ৫৮:২২।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ

*** “আর যারা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহর দল এবং তারাই বিজয়ী।” -সূরা মায়েদাঃ আয়াতঃ ৫:৫৬।

পীর আউলিয়া আল্লাহর দল

পীর আউলিয়া আল্লাহর দল এটা বলার আগে আমাদের জানতে হবে পীর বা আউলিয়া কারা?

পীর শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ। মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে বলে পীর।

এখন আসি পীর হতে গেলে আউলিয়া হতে হয়। ওলি বা অলি শব্দের আরবি বহুবচন আউলিয়া, এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত, রক্ষক, সাহায্যকারী ইত্যাদি।

পীর বা আউলিয়া শব্দের অর্থ থেকে বুঝতে পারলাম তিঁনিদের কাজ কি হতে পারে বা তিনিদের দায়িত্ব কি।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-

হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)

এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ করেছেন-

আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ। {সূরা ফাতিহা-৬,৭}

সূরায়ে ফাতিয়ায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।

প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছিল-

সূরা ইমরান আয়াতে আল্লাহ বলেন- তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।”

আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে। ” -সূরা মুজাদালাহঃ আয়াতঃ ৫৮:২২।

এই আয়াত গুলোর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম আল্লাহ বলেছেন- সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক, নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথে থাক, সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে, এই কথা গুলোই আমাদের মানতে হবে এবং এরকম ব্যক্তিদের আমাদের অনুসরণ করতে হবে।

একজন খাঁটি কামেল পীর বা আউলিয়াগণ অবশ্যই আল্লাহর এই নির্দেশ দেওয়া মানুষদের মধ্যে পরে থাকে।

*** বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব বলেন-

“শরীয়তে পাঁচটি রোকন বা ভিত্তি নির্ধারিত আছে। ঠিক তেমনি তরিকতের পাঁচটি রোকন আছে। শরীয়তের রোকন সমুহ হইলঃ ঈমান, নামাজ, যাকাত, রোজা ও হজ্জ। আর তরিকতের পাঁচটি রোকন হলঃ জেকের, রাবেতা, শোগল, মুরাকাবা ও মোহাছাবা।”

“বিশুদ্ধ ইবাদতের জন্য প্রয়োজন যাবতীয় শিরক হইতে নিজেকে মুক্ত করা।”

“আল্লাহর ওলীগণ হলেন জ্বলন্ত লৌহসদৃশ। এক খন্ড লৌহ যেইরুপ আগুনে পুড়িয়া আগুনের রং ধারন করে, সেইরুপ আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহ তায়ালার নূরের তাজাল্লীতে জ্বলিয়া আল্লাহর গুণে গুনান্বিত হন।”

(এই যে বাণী গুলো বা কথা গুলো এগুলো কথা পুষনকারী বা মান্যকারী কি আল্লাহর পথ নয়, এই তিনটি বাণীই দিয়েই বুঝালাম। যেমন- বলেছেন- ঈমান, নামাজ, যাকাত, রোজা ও হজ্জ এগুলোইতো ইসলামের মূল বিষয় তাহলে যিনি এই মূল বিষয় গুলোকে আকরে ধরেন ও পাশাপাশি আল্লাহর আরো ইবাদতে কিভাবে নিকট্য হাসিল করা যায় এগুলোও শিখায়।)

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো পীর আউলিয়া মানে ইসলামের পথ প্রদর্শক, মানে আল্লাহ যাদের কাছে যেতে বলেছেন তারাই হলো পীর আউলিয়া। পীর আউলিয়া কথা গুলো অস্বিকার করতে পারবেন না যদি তার ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান থাকে।

তবে পীর আউলিয়া বেশে নকল পীর আউলিয়া থাকতে পারে বা ভন্ড থাকতে পারে। তার জন্য সমস্ত পীর আউলিয়াকে মানা যাবে না এই চিন্তার কোন মানে নেই।

হাদিসে এসেছে-

যে তাঁর সময়ের ইমামের হাতে বায়াত না নিয়ে মারা গেল সে জাহিলিয়াতে মৃত্যুবরন করল।
(মুসনাদে আহম্মদ ইবনে হাম্বল ৪র্থ খন্ড) (মুসলিম)

এই বায়াত বা তরিকা দেওয়ার কাজটিও দেখবেন একমাত্র পীর আউলিয়াগণদের মধ্যে করে থাকে। তাতেই বুঝাযায় পীর আউলিয়া আল্লাহর দল একমাত্র। যা হাদিসেও এসেছে ৭৩টি বিভক্তির মধ্যে একটি দলই সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আর আল্লাহ নিজেও আল্লাহর দলের কথা বলেছেন।

পীর আউলিয়া যারা মানে না তাদের জন্য গরম ওয়াজ

আরো পড়ুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *