প্রিয় নবীজি সাঃ এর চল্লিশ হাদিস

By | April 13, 2023
প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদীস

এই পোষ্টে প্রিয় নবীজি সাঃ এর চল্লিশ হাদিস সম্পর্কে জানতে পারবেন। আশা করি এই হাদিস গুলো থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারবেন।

মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এমন একদল লোকের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যাদের মধ্যে শক্তিধর এক লোক ছিল। যে বড় বড় পাথর উত্তোলন করছিল এবং উপস্থিত লোকেরা তাকে ভারউত্তোলনের বীর হিসেবে বাহবা দিচ্ছিলো। আর ঐ ক্রীড়াবিদের কর্মকাণ্ডে সকলে অবাক হচ্ছিল। আল্লাহর নবী (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন: এখানে লোক সমাগমের কারণ কি? জনগণ ভারউত্তোলক ঐ ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কথা সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবগত করলো।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘তোমাদেরকে কি বলবো না যে, এ ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী কে? তার চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে সে, যাকে গালী দেওয়া হয় কিন্তু সে ধৈর্য্য ধারণ করে নিজের প্রতিশোধ পরায়ন নফসের উপর নিয়ন্ত্রন রাখে এবং নিজের শয়তান ও তাকে গালি দানকারী শয়তানের উপর বিজয়ী হয়। (তারায়েফুল হেকাম, পৃ. ৪০০)

প্রিয় নবী (সা.) সর্বদা সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। কারো সঙ্গে দেখা হলে কমপক্ষে হাসিমুখে তাকে শুভেচ্ছা জানাতেন। কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি জারির (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন। ’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ২৪৯)

মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করলে সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। (‘সদকা’ মানে দান, যার বিনিময়ে আল্লাহ আখিরাতে পুরস্কৃত করবেন। ) একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি ভালো কাজ সদকা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভালো কাজ হলো অন্য ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭০)

নিম্নে আরো চল্লিশটি হাদিস পড়ুন-

প্রিয় নবীজি সাঃ এর চল্লিশ হাদিস

১। কাজের ফলাফল তো নিয়ত অনুযায়ী।- বুখারী, মুসলিম।

২। মুসলমানের প্রতি মুসলমানের পাঁচটিদাবী। যথাঃ

ক) সালামের জবাব দেওয়া (খ) রোগীর দেখাশুনা করা, (গ) জানাজার পেছনে যাওয়া,

(ঘ) দাওয়াত গ্রহণ করা এবং (ঙ) (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলিয়া) হাঁচির জবাব দেওয়া। -বুখারী, মুসলিম ।

৩। যে মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহও তাহার প্রতি দয়া করেন না। – বুখারী, মুসলিম।

৪। পরনিন্দাকারী বেহেশতে প্রবেশ করিতে পারিবে না। – বুখারী, মুসলিম।

৫। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী বেহেশতে দাখিল হইতে পারিবেন না। – বুখারী, মুসলিম।

৬। অত্যাচার কিয়ামতের দিন সমূহে অন্ধকারের কারণ হইবে। – বুখারী, মুসলিম।

৭। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। – মুসলিম।

৮। প্রকৃত মুলমান সে-ই যাহার জিহবা ও হাত হইতে অন্য মুসলমান নিরাপদ। – বুখারী, মুসলিম।

৯। যে ব্যক্তির স্বভাবে নম্রতা নাই সে সর্বপ্রকার কল্যাণ হইতে বঞ্চিত। – মুসলিম।

১০। মল্লযুদ্ধে যে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে সে বীর নয়, প্রকৃত বীর সে-ই যে রোগের সময় আপন প্রবৃত্তিকে বশে রাখে। – বুখারী, মুসলিম।

১১। যখন তুমি লজ্জা ত্যাগ করিবে, তখন যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পার। – বুখারী, মুসলিম।

১২। নিয়মিত আমলই আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়, কম হইলেও – বুখারী, মুসলিম।

১৩। যে ব্যক্তি একবার আমার উপর দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাহার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন। -বুখারী।

১৪। তোমাদের মধ্যে সেই লোকই আমার অধিকতর প্রিয়, যে অধিকতর চরিত্রবান। – বুখারী, মুসলিম।

১৫। দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা আর কাফিরের জন্য স্বর্গ। – বুখারী, মুসলিম।

১৬। মুমিনের জন্য তাঁহার মুমিন ভাই-এর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করিয়া তিন দিনের বেশী থাকা বৈধ নহে। – বুখারী, মুসলিম।

১৭। মুমিন একই গর্তে দুইবার দংশিত হয় না। – বুখারী, মুসলিম।

১৮। আত্মার প্রচুর্যই তো প্রকৃত প্রাচুর্য। – বুখারী, মুসলিম।

১৯। দুনিয়াতে এইভাবে থাক যেন তুমি প্রবাসী কিম্বা পথিক। – বুখারী।

২০। মানুষ মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হইবার জন্য ইহাই যথেষ্ট যে, সে যাহা শুনে

(যাচাই না করিয়া) তাহাই বলিয়া বেড়ায়। – বুখারী।

২১। পিতার ভ্রাতা পিতৃ সমতুল্য। – বুখারী, মুসলিম।

২২। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাহার দোষ গোপন রাখিবেন। – বুখারী, মুসলিম।

২৩। সে-ই তো সফলকাম যে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে, রিজিক পাইয়াছে

প্রয়োজনমত এবং সন্তুষ্ট হইয়াছে আল্লাহ্ তাআলার দানের উপর। – মুসলিম।

২৪। কাজের সফলতা তো নির্ভর করে পরিনামের উপর। – বুখারী, মুসলিম।

২৫। মুসলমান মুসলমানের ভাই। – মুসলিম।

২৬। কোন বান্দাই প্রকৃত মুমিন হইতে পারিবে না, যতক্ষণ না সে অন্য মুসলমান ভাইয়ের

জন্য সেই জিনিস পছন্দ করে যাহা নিজের জন্য পছন্দ করে। – বুখারী, মুসলিম।

২৭। যে লোকের প্রতিবেশী তাহার ফ্যাসাদ হইতে নিরাপদ নয় সে বেহেশতে প্রবেশ করিতে পারিবে না। -মুসলিম।

২৮। ‘তোমাদের সন্তানদেরকে সম্মান করো এবং তাদের সাথে আদবের সাথে আচরণ করো’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২৩, পৃ. ১১৪)

২৯। তোমরা পরস্পরে সম্পর্কচ্ছেদ করিও না, গীবত করিওনা, শত্রুতা করিও না, হিংসা করিও না। আল্লাহর দাস হিসাবে তোমরা ভাই ভাই হইয়া যাও। – বুখারী।

৩০। কেহ ইসলাম গ্রহণ করিলে উহা তাহার পূর্বের পাপরাশি মিটাইয়া দেয় এবং হিজরত উহার পূর্বের পাপরাশি মিটাইয়া দেয়, আর হজ্ব ও উহার পূর্বের পাপরাশি মিটাইয়া দেয়। -মিশকাত

৩১। আল্লাহর সহিত শরিক করা, পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া, অন্যায় হত্যা করা ও মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেওয়া কবিরা গোনাহ্। – বুখারী, মুসলিম।

৩২। যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার একটি বিপদ দুর করিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাহার বিপদ সমূহ দুর করিবেন। আর যে ব্যক্তি কোন গরীবের প্রয়োজন সহজ করিবে, আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখিরাতে তাহার প্রয়োজন লাঘব করিবেন । আর যে কেহ কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখিবে, আল্লাহ্ দুনিয়া ওআখিরাতে তাহার দোষ গোপন রাখিবেন। আল্লাহ্ বান্দার সাহায্য কারী-যতক্ষণ বান্দা তাহার ভাইয়ের সাহায্যকারী থাকে। -মুসলিম।

৩৩। ‘সর্বোত্তম নৈতিকতার অধিকারী ব্যক্তিরা হচ্ছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম; যারা জনগণকে ভালবাসে এবং জনগণও যাদেরকে ভালবাসে’। (মিশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ. ১৮০)

৩৪। ঝগড়াটে ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র । – বুখারী, মুসলিম।

৩৫। ‘যে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার বিষয়ে তুমি সতর্ক কিন্তু সে তোমার অধিকার রক্ষায় সতর্ক নয়, সে তোমার জন্য উত্তম বন্ধু নয় এবং সে তোমার সাথে ওঠাবসার যোগ্য নয়’। (নাহজুল ফাসাহাহ, পৃ. ৬৭৬)

৩৬। ‘বিজ্ঞজনদের মাঝে গর্ব করার উদ্দেশ্যে, মূর্খদের সাথে তর্ক করার উদ্দেশ্যে, সভায় প্রশংসা কুড়ানোর জন্য, জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, নেতৃত্ব লিপ্সুতার জন্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে জ্ঞানের সন্ধান করো না। যদি জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কারো উদ্দেশ্য এমন হয় তবে তার স্থান হবে জাহান্নাম’। [লি-আলীল আখবার, পৃ. ১৯৩]

৩৭। ‘তিনটি এমন জিনিষ আছে যাতে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হয়নি; প্রথম: প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, চাই অপর পক্ষ মুসলমান হোক বা কাফের। দ্বিতীয়: পিতা মাতার প্রতি দয়াশীল হওয়া, চাই তারা মুসলমান হোক বা কাফের। তৃতীয়: আমানত রক্ষা করা, চাই অপর পক্ষ মুসলমান হোক বা কাফের’। মাজমুয়াতুল ওয়ারাম (তানবিহুল খাওয়াতের), খণ্ড ২, পৃ. ১২১)

৩৮। ‘মহান আল্লাহর পবিত্র সত্ত্বার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি রূপ হচ্ছে মুসলিম বৃদ্ধ ও বয়োজেষ্ঠ্যদের প্রতি সম্মান করা’। (আল-কাফী, খণ্ড ২, পৃ. ১৬৫)

৩৯। ‘তোমরা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য সৃষ্টি হওনি, বরং তোমরা অবশিষ্ট থাকার জন্য সৃষ্টি হয়েছো। আর তোমরা [মৃত্যুর মাধ্যমে] এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবে’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৩, পৃ. ১৬১)

৪০। আমি নবীদের শেষ, আমার পর কোন নবী নাই। – বুখারী, মুসলিম।

আরো পড়ুন-

তথ্যসূত্রেঃ

  • jugantor.com/everyday/134759/প্রিয়-নবীর-২০-হাদীস
  • banglanews24.com/islam/news/bd/820152.details

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *