ইসলামী বর্ষপঞ্জি, ইসলামি হিজরি বছরের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ

By | March 3, 2023
কামেল পীর চেনার উপায়

এই পোষ্টের মাধ্যমে ইসলামী বর্ষপঞ্জি বা ইসলামিক বছরের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ ও মুসলমানদের ছুটির দিন জানতে পারবেন।

আরো ভালভাবে সংক্ষেপে বলতে গেলে এই পোষ্টে ইসলামি (হিজরি) বছরে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো জানতে পারবেন যা ইসলামি বর্ষপঞ্জি। সেই সাথে মুসলমানদের ছুটির দিন সমূহও জানতে পারবেন। সপ্তাহের দিন সমূহের নাম, আরবি মাসের নামের অর্থ ও কি কারনে মাসের নাম রাখা হয়, আরবি মাসের বছর হিসাব কিভাবে হয়, মাসের দৈর্ঘ্যকাল হিসাব জানতে পারবেন।

—- ইসলামী বর্ষপঞ্জি—-

ইসলামি হিজরি বছরের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ

* ১ মুহররম: ইসলামি নববর্ষ।
* ১০ মুহররম: আশুরা। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নাতি হোসাইন (রাঃ) ও তার পরিবার পরিজন ও সঙ্গী সাথীসহ কারবালার ময়দানে শাহাদাতবরণ করেন।
* ১২ রবিউল আউয়াল: ঈদে মিলাদুন্নবী, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) প্রিয় নবী এই দিনে দুনিয়াতে আগমন করেছিলেন (জন্ম গ্রহণ করেন)।
* ২৭ রজব: লাইলাতুল মেরাজ মানে শবে মেরাজ, এই দিনে রাসুল (সাঃ) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন এবং মুসলিমদের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে আসেন।
* ১৫ শাবান: লাইলাতুল বরাত মানে শবে বরাত। রহমত বরকত বা ক্ষমাপ্রার্থনার রাত।
* ১ রমজান: রোজা রাখার প্রথম দিন।
* ২৭ রমজান: কদরের রাত। এই দিনে রাসুলে করিম (সাঃ) এর কাছে প্রথম কুরআনের আয়াত নাজিল হয়।
* রমজানের শেষ তিনদিন যার মাঝে কদরের রাত অন্তর্ভুক্ত।
* ১ শাওয়াল: ঈদুল ফিতর। রোজার ঈদ বা ছোট ঈদও বলে থাকে ।
* ৮–১৩ জিলহজ্জ: হজ্জ তথা মক্কায় তীর্থযাত্রা।
* ৯ জিলহজ্জ: আরাফাতের দিন।
* ১০ জিলহজ্জ: ঈদুল আযহা, কোরবানীর ঈদ বা বড় ঈদও বলা হয়ে থাকে।

সপ্তাহের দিন সমূহের নাম

* ইসলামি দিন শুরু হয় সূর্যাস্তের সময়।

১। আল-আহাদ‎ =প্রথম= রবিবার।
২। আল-ইসনাইন =দ্বিতীয়= সোমবার।
৩। আস-সুলাসা =তৃতীয়= মঙ্গলবার।
৪। আল-আরবিয়া =চতুর্থ= বুধবার
৫। আল-খামিস =পঞ্চম= বৃহস্পতিবার
৬। আল-জুমাহ =সমাবেশ= শুক্রবার।
৭। আশ-সাবত =বিশ্রাম= শনিবার।

ইসলামী বর্ষপঞ্জি

আরবি মাসের নামের অর্থ ও কি কারনে মাসের নাম রাখা হয়

১। মুহররম =অর্থ= নিষিদ্ধ। এই মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ (হারাম) বিধায় এটি পবিত্র মাস বলে বিবেচিত। এ মাসের ১০ম দিনে আশুরা পালিত হয়।

২। সফর = অর্থ= রিক্ত, শূন্য, ভ্রমণ। এ মাসের এরূপ নামকরণের কারণ সম্ভবত এটি যে, প্রাক-ইসলামি যুগে আরবীয় ঘর-বাড়ি এই সময়ে শূন্য থাকতো যখন গৃহস্থরা খাবার সংগ্রহ করতো।
সফর শব্দের আরেকটি অর্থ হল ভ্রমণ। এ মর্মে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হলো,তৎকালীন আরবরা এ মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বেশি ভ্রমণ করত বলে এ মাসের নাম রাখা হয়েছে সফর।

৩। রবিউল আউয়াল = অর্থ= প্রথম বসন্ত, অন্য অর্থ চারণ। কেননা এই সময়ে গবাদি পশু চারণ করা হতো। মাসটি মুসলিমদের জন্য পবিত্র একটি মাস বলে বিবেচিত কারণ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এই মাসে জন্মগ্রহণ করেন (ঈদে মিলাদুন্নবী)।

৪। রবিউস সানি = অর্থ= দ্বিতীয় বসন্ত।

৫। জমাদিউল আউয়াল = অর্থ= প্রথম শুকনো ভূমিখণ্ড। প্রাক-ইসলামি গ্রীষ্মকাল হিসেবে বিবেচিত।

৬। জমাদিউস সানি = অর্থ= দ্বিতীয় শুকনো ভূমিখণ্ড।

৭। রজব = অর্থ= শ্রদ্ধা, সম্মান। এটি আরবি বছরের দ্বিতীয় মাস যখন যুদ্ধ নিষিদ্ধ। ‘রজব’ শব্দের অন্য অর্থ ‘সরিয়ে নেওয়া’। কেননা প্রাক-ইসলামি যুগে আরবরা এ মাসে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার জন্য বর্শার মাথা সরিয়ে রাখতো।

৮। শা’বান = অর্থ= বিক্ষিপ্ত। এর নামকরণের সম্ভাব্য কারণ এ মাসের পানির অভাব। তৎকালীন আরবেরা এ মাসে পানির সন্ধানে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তো। তাই এর নাম ‘শাবান’। এর অন্য অর্থ দুইয়ের মাঝামাঝি, কেননা এটি রজব এবং রমজান মাসের মাঝখানে।

৯। রমজান = অর্থ= দহন, উপবাস বা রোজাকে বোঝানো হয়েছে। কেননা উপবাস বা রোজার মাধ্যমে ব্যক্তির পার্থিব লালসা দগ্ধ হয়। রমজান মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র মাস। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এ মাসে পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা হয়। এ মাসে মুসলিমদেরকে সুবহে সাদিক(শেষরাত) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বাধ্যতামূলক রোজা রাখতে হয়।

১০। শাওয়াল = অর্থ= উত্থিত। এ নামের কারণ এই সময়ে স্ত্রী-উট বাচ্চা প্রসব করে এবং লেজ উত্থিত করে।

১১। জ্বিলকদ = অর্থ= সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাস। এ মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ, তবে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষা বৈধ।

১২। জ্বিলহজ্জ = অর্থ= হজ্জের মাস। এই মাসে মুসলিমরা মক্কায় কাবার উদ্দেশ্যে হজ্জ করতে যায়। এ মাসের ৮, ৯ ও ১০ তারিখে হজ্জ হয়। ঈদুল আযহা এই মাসের ১০ তারিখে শুরু হয় এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্তের সাথে সাথে শেষ হয়। এই মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ।

আরবি মাসের বছর হিসাব কিভাবে হয়

বারোটি হিজরি মাসের চারটিকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়: রজব (৭ম), এবং তিন ক্রম মাস জিলক্বদ (১১তম), জিলহজ্জ (১২তম) ও মুহররম (১ম)।

যেহেতু একটি ক্রান্তীয় বছরের গড় সময়কাল হল ৩৬৫.২৪২১৯ দিন, আবার অন্যদিকে একটি সিনোডিক মাসের দীর্ঘমেয়াদী গড় সময়কাল ২৯.৫৩০৫৮৭৯৮১ দিন, তাই একটি গড় চন্দ্র বছর গড় সৌর বছর থেকে ১০.৮৭৫১৩ দিন (৩৬৫.২৪২১৯ – ১২ × ২৯.৫৩০৫৮৭৯৮১ ) ছোট হয়ে থাকে। যার ফলে প্রতি পঞ্জিকা বছরে হিজরি ইসলামি বর্ষপঞ্জির মাসগুলো গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির চেয়ে প্রায় এগারো দিন করে এগিয়ে যেতে থাকে। “ফলস্বরূপ, বারো চন্দ্র মাসের চক্রটি একই ঋতুতে ৩৩ (সৌর) বছরে প্রত্যাবর্তন করে।

মাসের দৈর্ঘ্যকাল হিসাব

ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস নতুন চন্দ্র আগমনের সাথে সাথে শুরু হয়। ঐতিহ্যগতভাবে, এটি চাঁদের অর্ধচন্দ্রের প্রকৃত পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে পূর্ববর্তী মাসের সমাপ্তি চিহ্নিত করে, এর ফলে নতুন মাস শুরু হয়। ফলস্বরূপ চাঁদের দৃশ্যমানতা, পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় অবস্থান ও আবহাওয়ার অবস্থার উপর নির্ভর করে প্রতি মাসে ২৯ বা ৩০ দিন থাকতে পারে।

আরো পড়ুন-

তথ্য সূত্রেঃ

bn.wikipedia.org/wiki/ইসলামি_বর্ষপঞ্জি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *