শবে মেরাজ পালন করা জায়েজ কোরআন হাদিস থেকে

By | February 18, 2023
শবে মেরাজ পালন করা জায়েজ

এই পোষ্টের মাধ্যমে শবে মেরাজ পালন করা জায়েজ কোরআন হাদিস থেকে জানতে পারবেন। আশা করি যাদের মনে এই প্রশ্ন আছে তারা উত্তর পেয়ে যাবেন। (Lailatul Meraj)

লাইলাতুল মেরাজ কি?

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী রাসুল (সাঃ) এর নবুওয়াতের দশম বৎসরে (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাত ২৭শে রজব লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত (শবেমেরাজ ) বলা হয়। নবী করিম (সাঃ) প্রথমে কাবা শরীফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি সকল নবীদের সাথে জামায়াতে নামাজ পড়েন এবং ইমামতি করেন। নবীজি (সাঃ) বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করেন। রাসুলে করিম (সা:) আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার আগ পর্যন্ত এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) রাসুল (সাঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলেন।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তিনি নিকটে এসেছেন এবং অতীব নিকটবর্তী হয়েছেন। এমনকি দুই ধনুকের মত নিকটবর্তী হয়েছেন, এমনকি আরও অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন। (সূরা নজম : আয়াত ৮ ও ৯)।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেনঃ
“আমি আমার প্রতিপালককে সুন্দরতম অবস্থায় দেখেছি”।
(১.মিশকাত, হাঃ ৭২৫, ২.সুনানে দারেমী, হাঃ ২১৪৯)

শবে মেরাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলাম ধর্ম মতে শবে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করার বিধান মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবী করিম (সা:)।

মেরাজের ঘটনা পুরোটাই ঈমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই রাতে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বিশেষ নৈকট্য দান করেন। মুসলমানদের জন্য নামাজ উপহার দেন। তাই নিঃসন্দেহে এই রাত গুরুত্ববহ ও ফজিলতপূর্ণ। এই রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে কোনো মুসলমানের সন্দেহ থাকতে পারে না।

শবে মেরাজ পালন করা কি জায়েজ

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আমরা ইসলামের অনেক ইতিহাস ভুলতে চলেছি। তার মধ্যে শবে মেরাজ একটি। আমরা অনেকেই জানি না শবে মেরাজ কেন পালন করা হয়ে থাকে।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শবে মেরাজ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহতালার আদেশে সাত আসমানে মহান আল্লাহতালার সাথে সাক্ষাত করতে যান এবং বান্দাদের জন্য উপহারস্বরূপ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নিয়ে আসেন। যেহেতু শবে মেরাজ একটি বিশেষ দিন সেহেতু এই দিনের দিবাগত রাতে বিশেষভাবে ইবাদত পালন করা হয়ে থাকে।

শবে মেরাজ পালন করা জায়েজ

মুমিন মুসলমান এই রাত্রিটি এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করে থাকেন। শত শত বছর ধরে মানুষ বিনা দিধায় শবে মেরাজ পালন করে আসছে। কোন চিন্তাই করেনি শবে মেরাজ পালন করা যাবে কিনা। কারণ কোন দলিলের দরকার নেই শবে মেরাজ পালন করতে কারণ এই রাত্রিতে আমাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এসেছে, নবীজি (সাঃ) এর সাথে আল্লাহ পাকের সাক্ষাত হয়েছে, এই রাত্রিটি অবশ্যই মহিমান্বিত। আর এই মহিমান্বিত রাতটিকে স্বরণ করার জন্য মুমিন মুসলমানরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নফল ইবাদত বন্দেগি করে থাকে। যদিও নফল ইবাদত করার জন্য কোন দিন তারিখের দরকার নেই, সব সময় পড়া যায়। তবে এই রাত যেহেতু বিশেষ মহিমান্বিত তাই এই রাতটি স্বরণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে মুমিনগন।

শবে মেরাজের পালন করার গুরুত্বপূর্ণ দলিল জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *