জাহাজ বিক্রির চুক্তিনামা করার নিয়ম, চুক্তিপত্র ফরমেট

আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে বা বিভিন্ন পারপাসে চুক্তিপত্র বা চুক্তিনামা তৈরি করতে হয়। বিশেষ করে যখন কোন কিছু বিক্রি করি বা কোন কিছু ক্রয় করি তখন দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিপত্র তৈরি করতে হয় যা দলিল হিসেবে কাজ করে। (Agreement to sell tourist ships)

এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের চুক্তিপত্র ফরমেট দেওয়া আছে আগেই। তবে আজকে যে চুক্তিপত্রটি আপনাদের কাছে তুলে ধরবো তা হলো পর্যটকবাহী জাহাজ বিক্রির চুক্তিপত্র (Ship sale agreement) এই চুক্তিনামাটি দরকার হয় যখন কেউ জাহাজ বিক্রি করতে চায় তখন। আপনাদের যদি জাহাজ বিক্রির চুক্তিপত্র তৈরি করতে হয় বা জানতে চান কিভাবে জাহাজ বিক্রয়ের চুক্তিপত্র তৈরি করতে হয় তাহলে আজকের এই পোষ্টটি আপনার জন্য। এখানে নিম্নে যে চুক্তিপত্র নমুনা ফরমেট টি তুলে ধরা হলো আপনি চাইলে আপনার মত করে তথ্য পরিবর্তন করে নিজেই চুক্তিপত্র তৈরি করে নিতে পারেন।

যেকোন চুক্তিপত্র বাংলাদেশ আইন অনুসারে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প যা ১০০ টাকার ৩টি ষ্ট্যাম্প পেপারে প্রিন্ট করতে হয়। আপনি তিন পেইজে ভাগ করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।

নিম্নে পর্যটকবাহী জাহাজ বিক্রির চুক্তিনামা নমুনা ফরমেট তুলে ধরা হলোঃ-

“পর্যটকবাহী জাহাজ বিক্রির চুক্তিনামা”

১। ফারুক হোসেন, পিতা-মোতালেব হোসেন, মাতা: ফরিদা খাতুন, সাং ৫৫, আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর ঢাকা জাতীয়তা বাংলাদেশী, জাতীয় পরিচয়পত্র নং-২৬৪৬৯১৪৮৮৮৮ ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

 -বিক্রেতা

১। মোঃ আনামুল ভূইয়া, পিতা-মোঃ মমিনুল ভূইয়া, মাতা: শরিফা বেগম, সাং গ্রাম/রাস্তাঃ পোঃ ফাউসা, থানা: আড়াইহাজার,  জিলা-নারায়নগঞ্জ, জাতীয়তা- বাংলাদেশী, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৬৯৯৯৮৯৭৫৯১২, ধর্ম – ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

-ক্রেতা

পরম করুনাময় অতিশয় দয়ালু ও দাতা মহান আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরন করে, মেসার্স নাহার কমার্শিয়াল বাংলাদেশ,এর এম.সি  দোয়েল, এম নং -৮০০৪, পর্যটকবাহী জাহাজটি বিক্রি করার চুক্তি এর বয়ান আরম্ভ করিলাম । উক্ত পর্যটকবাহী নৌ-যানটির বৈধমালিক হিসাবে আমরা ভোগদখলকারী নিয়ত আছি, বর্তমানে আমরা উক্ত জাহাজটি বিক্রয় করার অভিমত প্রকাশ করার পর আপনি ক্রেতা উক্ত পর্যটকবাহী জাহাজখানা খরিদ করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন । সে মতে, উভয় পক্ষ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হইলাম যে, বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে ইহার দাম সিদ্ধান্ত হয় মূল্য- ৯,০০,০০০ (নয় লক্ষ) টাকা মাত্র, আমরা বিক্রেতাগণ ক্রেতার নিকট হইতে পুরো টাকা বুঝিয়া পেয়েছি। আমরা বিক্রেতাগণ  ক্রেতাকে তার নিকট বিক্রিত এম.সি  দোয়েল, এম নং -৮০০৪, পর্যটকবাহী জাহাজটি বুঝাইয়া দিলাম। আমি এই মর্মে অঙ্গিকার করিতেছি যে, ইতিপূর্বে পর্যটকবাহী জাহাজখানা অন্য কাহারো নিকট বন্ধক, বিক্রয় কিংবা বায়না দলিল করি নাই। করিলে ও তাহা আইন-আদালত এ অগ্রাহ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে। আর ও উল্লেখ্য যে, পর্যটকবাহী জাহাজখানার বিপরীতে আমি কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান বা বেসরকারি কোন প্রকার পাওনা/দাবী নাই  এবং স্টাপদের বেতন-ভাতাদি ও মেরিন কোর্টে মামলা মোর্কদ্দমা থাকিলে আমি (বিক্রেতাগন) নিজ দায়িত্বে পরিশোধ ও সমাধান করিয়া দিতে বাধ্য থাকিব।

অদ্য তারিখ ঃ জানুয়ারী ০১, ২০১৮ ইং হইতে এই পর্যটকবাহী জাহাজটি যাবতীয় দায় দায়িত্ব ক্রেতা বহন করিবে।

এতদ্বার্থে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে অত্র বিক্রয় নামা দলিল পাঠ করিয়া ও করাইয়া উহার লিখিত বক্তব্য অবগত হইয়া অন্যের বিনা অনুরোধে ও বিনা প্ররোচনায় অত্র  বিক্রেতাগন (দাতা) ও    গ্রহীতা/ক্রেতা স্ব-স্ব নাম সম্পাদন করিয়া দিলাম।

ইতি, তারিখঃ- জানুয়ারী ০১, ২০১৮ ইং

-ঃ বিক্রিত পর্যটকবাহী জাহাজখানার তফসিল বর্ণনাঃ

নৌ-যানের কোম্পানীর নামঃ নাহার কমার্শিয়াল বাংলাদেশ জাহাজখানার নামঃ এম.সি  দোয়েল,  এম নং  -৮০০৪, নৌ-যানের দৈর্ঘ – ১৬.২৪ মিটার, প্রস্থ্য- ৩.৬৭মিটার, গভীরতা- ১.০৫ মিটার, ইঞ্জিনের নামঃ ইসুজো , ইঞ্জিনের সংখ্যা- ০১, ইঞ্জিনের শক্তিঃ- ৮৫ হর্স

অত্র চুক্তিটি ৩ ফর্দ্দে কম্পোজকৃত এবং ৩ (তিন) জন স্বাক্ষ বটে।

 দাতা/বিক্রেতা স্বাক্ষর

………………………………………….

 

গ্রহীতা/ক্রেতা স্বাক্ষর

………………………………………….

স্বাক্ষীগনের স্বাক্ষরঃ

১।                                                                                                          

২।

৩।                                                                                                         

আরো জানুন-