নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২২

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ছোঁয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকিং খাতে বেশ পরিবর্তন আনয়ন করা হচ্ছে যার কারণে ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশে যে সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রয়েছে তাদের মধ্যে ডাক বিভাগের নগদ স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের বাজারে বিকাশের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

2019 সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা টি দেশের বাজারে এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সময়ের সাথে সাথে তাদের নতুন ফিচারস দিয়ে গ্রাহকদের আকর্ষন করার চেষ্টা করছে। আপনারা যারা নগদ ব্যবহার করে থাকেন তারা এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ব্যবহার সম্পর্কে জেনে থাকবেন।

তবে আজকে আমরা আপনাদের নগদ এর নতুন একটি একাউন্ট খোলার নিয়ম এবং এর সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছে। সম্প্রতি নগদ কর্তৃপক্ষ এক নতুন ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের একাউন্ট খোলার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে যেখানে আমরা দেখতে পাই যে ব্যবসায়ীদের জন্য নগদ একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সুতরাং আপনারা ব্যবসায়ী এবং আপনাদের প্রসারিত করতে চান তাদের জন্য এটি সুবর্ণ সুযোগ। ব্যবসায়িক কাজের জন্য আপনাকে প্রতিদিন অনেক টাকা লেনদেন করতে হয় এক্ষেত্রে আপনার পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট থেকে অনেক টাকা লেনদেন করার সীমাবদ্ধতা থাকে। আপনার ব্যাবসায়িক সুবিধার কথা ভেবেই নগদ কর্তৃপক্ষ আপনাদের জন্য মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে। সুতরাং আপনারা যারা ব্যবসা করেন তারা এই অ্যাকাউন্টটি চালু করতে পারেন।

নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট এর সুবিধা

আপনার একটি পার্সোনাল নগদ একাউন্ট রয়েছে তবুও কেন আপনি একটি নতুন মার্চেন্ট একাউন্ট খুলবেন এ নিয়ে আপনার মাথায় দ্বিধা থাকতে পারে। তবে আপনাদের এদিকে দূর করার জন্য আমরা আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছে নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট এর সুবিধা গুলো নিয়ে। আপনি যদি আপনার ব্যবসাকে প্রসারিত করতে চান এবং স্বল্প খরচে লাভবান হতে চান তাহলে নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

  • ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যদি মার্চেন্ট একাউন্ট থাকে তাহলে আপনার গ্রাহকরা খুব সহজেই আপনার নতুন একাউন্ট এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবে এবং তারা পেমেন্ট করতে অনেক বেশি আগ্রহ প্রকাশ করবে।
  • আপনার একটি পার্সোনাল নগদ একাউন্ট থাকলেও আপনি নতুন করে একই জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন।
  • পার্সোনাল নগদ একাউন্টে টাকা লেনদেনের একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিন্তু নগদ একাউন্টে আপনি যত খুশি তত টাকা লেনদেন করতে পারবেন।
  • আপনারা যারা অনলাইনে শপিং করতে আগ্রহী তাদের জন্য নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট বিশেষ ব্যবস্থা করেছে কেননা শপিং করার ক্ষেত্রে এ মার্চেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করলে আপনি বিশেষ ছাড় পাবেন।

নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

ওপরের অংশের সুবিধা গুলো দেখার পর হয়তো আপনি একটি নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা জরুরী মনে করেন। কিন্তু একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে সঠিক নির্দেশনা জানা অত্যন্ত জরুরী যার কারণে আমরা আপনাদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই কিভাবে নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে হয় তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

  • নগদ একাউন্ট খুলতে হলে আপনাকে পার্সোনাল একাউন্ট খোলার মত করেই প্রথমেই নগদ অ্যাপ্লিকেশন অথবা নগদ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  • অ্যাকাউন্ট খোলার পর মাঝখানে অন্যান্য ডকুমেন্ট শিরোনামের একটি পেজ  পাবেন। তারপর দুটি অপশন আসবে সাধারণ একাউন্ট আর হচ্ছে মার্চেন্ট একাউন্ট।
  • নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট অপশনে ক্লিক করা মাত্রই আপনার সামনে একটি চরম চলে আসবে তা আপনাকে যথাযথ তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।
  • চলতি বছরের হালনাগাদকৃত ট্রেড লাইসেন্স অথবা  অন্যান্য কাগজপত্রের  পরিষ্কার ছবি তুলে আপলোড করতে হবে।
  • পরিশেষে আপনার মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আপনি এখন তা ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনারা অনেকেই জেনেছেন যে নগদ মার্চেন্ট একাউন্ট এর টাকা লেনদেনের নির্দিষ্ট কোন লিমিট নেই। আবার অনেকেই রয়েছেন যারা জানতে চেয়েছেন যে নগদ মার্চেন্ট একাউন্টে ক্যাশ আউট চার্জ কত তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে আপনি নগদ পার্সোনাল একাউন্টে যে পরিমাণ ক্যাশ আউট চার্জ প্রদান করেন ঠিক সে পরিমাণ ক্যাশ আউট চার্জ আপনাকে মার্চেন্ট একাউন্টে প্রদান করতে হবে।