ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় ২০২২

ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত অনেক কাজে শুরু করার ক্ষেত্রে আপনার বড় মূলধন প্রয়োজন। এ অবস্থায় আপনি আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব এর থেকে বড় অঙ্কের টাকা ধার চেয়ে নাও পেতে পারেন। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি যেসকল ব্যাংক গুলো রয়েছে সাধারণত তারা ব্যাংকিং কাঠামো ব্যক্তিমালিকানার লোনের উপর নির্ভর করে চলে।

ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়ীক কাজে ব্যাংকঋণের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু অনেকেই ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে অবগত নন আসলে ব্যাংক লোন চাই বললেই আসলে ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া সহজ নয়। কোন বিপদে আপনি যদি আর্থিক সংকটে পড়ে থাকেন এ অবস্থা থেকে বের করার জন্য আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে কাজ করে ব্যাংক।

আপনাকে অনেক কিছু করতে সাহায্য করবে যদিও সুদ নেওয়ার ব্যাপারে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না আপনাকে। ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার প্রক্রিয়া এতটা সহজ নয় যার কারণে আপনি চাইলে ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন না। সঠিক পন্থা না জানলে কোনো কারণে যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাকে লোন প্রদান করবে না।

সুতরাং আপনি যদি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য লিখা হয়েছে। কেননা আমরা আজকে আলোচনা করতে চলেছে লোন পাওয়ার উপায় এবং ব্যাংকের লোন নেওয়ার সহজ উপায় রয়েছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য। সুতরাং আমাদের পুরো আর্টিকেলটি আপনি পড়ুন এবং ব্যাংক থেকে কিভাবে লোন নিতে হয় তার সম্পর্কে জানুন।

ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়

আমরা ইতিমধ্যে আপনাদের জানিয়েছি যে ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া একটি জটিল বিষয় যদিও অনেকেই রয়েছেন ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান কিন্তু সঠিক পন্থা অবলম্বন না করার জন্য তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে লোন দেওয়া হয় না। কোন খারাপ অবস্থা থেকে বের করার জন্য ব্যাংক লোন আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে আপনাদের প্রথমে ব্যাংক লোন কিতা সম্পর্কে জানা জরুরী।

ব্যাংক লোন কি?

কোন একটি সরকারি অথবা বেসরকারি ব্যাংকের থেকে নির্দিষ্ট সময় কালের জন্য কোনো গ্রাহক অর্থ ঋণ দিতে প্রস্তুত হয় তাকে বলা হয় ব্যাংক লোন। ব্যাংক লোনের শর্ত হিসেবে গ্রাহকদের প্রতিমাসে প্রতি বছরের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে সুদ হিসেবে প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের লোনের সুব্যবস্থা রয়েছে।

ব্যাংক লোনের ধরন ও প্রকারভেদ

বাংলাদেশের যে সকল সরকারী বেসরকারী ব্যাংক রয়েছে তারা বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের লোন তাদের গ্রাহকদের মাঝে প্রদান করেন। সাধারণত আপনার কাজের উদ্দেশ্যে উপর নির্ভর করে ব্যাংক লোন নির্ভর করে। আপনি কোন ধরনের লোন কি উদ্দেশ্যে নিতে চান সেটা সম্পর্কে ঠিক করার পর আপনাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

পার্সোনাল লোন : কোন ব্যক্তিগত কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য আপনি এল নিতে নিতে পারেন।

ব্যবসায়িক লোন : যেকোনো ধরনের ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনি বাণিজ্যক লোন নিতে পারেন।

হোম লোন : বাড়ি কেনা বা তৈরি করার জন্য এ লোন প্রদান করা হয়।

অটো লোন : আপনি যে কোন ধরনের গাড়ি কেনার জন্য এই লোন গ্রহণ করতে পারেন।

স্টুডেন্ট লোন বা এডুকেশন লোন: পড়াশোনা করার জন্য এ লোন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ছাত্র ছাত্রীদের প্রদান করা হয়।

প্রবাসী লোন : আপনি যদি দেশের বাইরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন কিন্তু পাসপোর্ট ভিসা করার মতন পর্যাপ্ত টাকা আপনার নেই এই অবস্থায় আপনি প্রবাসী লোন গ্রহণ করতে পারেন।

কৃষি লোন : যেকোনো ধরনের কৃষি কাজ যেমন সার ও কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য এ লোন প্রদান করা হয়।

ব্যাংকের লোন এর প্রকারভেদ

ব্যাংকের লোন গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে যা নিচের অংশে আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণত মেয়াদের ওপর নির্ভর করে ব্যাংক লোন নির্ধারণ করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদি লোন: দীর্ঘমেয়াদি লোন বলতে ওইসব নোংরা এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেওয়া হয় যেমন পার্সোনাল লোন এডুকেশন লোন হোম লোন বিজনেস লোন ইত্যাদি।

স্বল্পমেয়াদী লোন : কম সময়ের মধ্যেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার কে বলা হয় স্বল্পমেয়াদী লোন যেসব নন এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দিয়ে দিতে হয় তাকে স্বল্পমেয়াদী লোন বলা হয়। যেমন কৃষি লোন প্রবাসী লোন ইত্যাদি।

কোন ব্যাংক থেকে লোন নিবেন?

আমাদের দেশের প্রায় সব ব্যাংক লোন প্রদান করেছেন। সব ধরনের ব্যাংক লোনের সুবিধা দিলেও আপনাকে বেছে নিতে হবে আপনি কোন ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন। তবে লোন নেয়ার ক্ষেত্রে আপনি সর্বদা যে সকল ব্যাংকগুলোতে ইন্টারেস্ট বাসদ কম গ্রহণ করা হয় সেই ব্যাংক থেকে লোন নিলে অত্যন্ত বেশি সুবিধা হয় বলে মনে করি।

অন্যদিকে এসব ব্যাংকের সব ধরনের লোনের সুবিধা আবার ভালো নাও হতে পারে এক্ষেত্রে আপনাকে ভেবেচিন্তে আপনার লোন এর ধরন অনুযায়ী ব্যাংক নির্ধারণ করতে হবে। নিচের অংশে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার পদ্ধতি ও ইন্টারেস্ট রেট উল্লেখ করেছি।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এনি পারপাস লোন

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক আপনাকে যেকোনো কাজের জন্য লোন প্রদান করবে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে লোন প্রদান করার। আপনি যদি পাঁচ লাখ টাকা পাঁচ বছরের জন্য লোন গ্রহণ করেন তাহলে আপনাকে যে ইন্টারেস্ট এবং মাসিক ইনস্টলমেন্ট দিতে হবে তা নিচের অংশে দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারেস্ট রেট হিসেবে 9।9 শতাংশ এবং মাসিক ইনস্টলমেন্ট হিসেবে আপনাকে 10 হাজার 598 টাকা প্রদান করতে হবে।

সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন

সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন সুদের আপনাকে লোন সুবিধা প্রদান করছে। আপনি যদি 5 লাখ টাকায় ব্যাংক থেকে 5 বছরের মেয়াদে লোন গ্রহণ করেন তাহলে আপনি মাসিক ইনস্টলমেন্ট দিয়ে তা পরিশোধ করতে পারবেন।

আপনি যদি চাকরিজীবী হয় তাহলে আপনার জন্য ইন্টারেস্টে রেড 10।5 শতাংশ কিন্তু আপনি যদি ব্যবসায়ী হন তাহলে আপনার জন্য ইন্টারেস্ট রেট বেড়ে 13% হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে আপনাকে মাসিক ইনস্টলমেন্ট হিসেবে 10 হাজার 740 টাকা প্রদান করতে হবে।

ব্রাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন

ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি বেসরকারি ব্যাংক পার্সোনাল লোন প্রদান করে থাকে গ্রাহকদের মাঝে স্বল্প সুদে। বাংলাদেশের আলম সুবিধার মধ্যে এই ব্যাংকটি অন্যতম। যেখানে আপনি 5 লাখ টাকা লোন নেওয়ার জন্য যদি পাঁচ বছর মেয়াদি নির্ধারণ করেন তাহলে আপনাকে ইন্টারেস্ট রেট হিসেবে 10।5 শতাংশ এবং 12।7 5 শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতে পারে। ইনস্টলমেন্ট হিসেবে 10 হাজার 740 টাকা প্রতিমাসে আপনাকে প্রদান করতে হবে।

ইবিএল এসইওর লোন

ইসলামী ব্যাংকের সেরা লোন হচ্ছে তাদের অল পারপাস লোন যা প্রত্যেক গ্রাহকের গ্রহণ করতে পারবে। সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য গ্রহণ করা হয় এবং আপনি যদি 5 লাখ টাকা লোন গ্রহণ করেন তাহলে আপনাকে ইন্টারেস্ট হিসেবে 10।5% এবং মাসিক ইনস্টলমেন্ট 10 হাজার 740 টাকা প্রদান করতে হবে।

ট্রাস্ট ব্যাংক স্যালারি লোন

আপনি যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ট্রাস্ট ব্যাংকের লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশের যে সকল প্রধান সার্ভিস রয়েছে তাদের মধ্যে সেরা একটি লোন ব্যবস্থা হল ট্রাস্ট ব্যাংক লোন। অন্যান্য ব্যাংকের মতন আপনি যদি এই ব্যাংক থেকে 5 লাখ টাকা লোন গ্রহণ করেন তাহলে পাঁচ বছরের জন্য আপনাকে 11 দশমিক 5 শতাংশ হারে ইন্টারেস্ট প্রদান করতে হবে এবং মাসিক ইনস্টলমেন্ট হিসেবে 10996 টাকা প্রতিমাসে প্রদান করতে হবে।

লোন পাওয়ার শর্ত কি?

ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে সকল শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণ করা। সুতরাং আপনি যদি কোন ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিতে চান তাহলে অবশ্যই সে ব্যাংকে যে সকল নির্দেশনা রয়েছে তা অনুসরণ করুন।

  • লোন নেওয়ার কারণ।
  • ব্যবসা বা চাকরিতে আপনার কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  • লোন নেওয়ার আপনি কী পরিকল্পনা করেছেন।
  • আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রি।
  • আপনার ব্যক্তিগত তথ্য।
  • আপনার ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট।
  • ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট।
  • আগে অন্য কোন ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করেছেন কিনা।

ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে?

ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে কাগজপত্র রেডি করা আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার পর পূর্বেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আপনাকে বেশ কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

  • আবেদন ফরম যথাযত ভাবে পূরন করে গ্রহণকারীর স্বাক্ষরসহ জমা প্রদান করতে হবে।
  • আপনার ছবি যা সম্প্রতি তোলা হয়েছে।
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
  • যে প্রতিষ্ঠানে আপনি চাকরিরত অবস্থায় রয়েছেন তার অফিস আইডি কপি।
  • সেলারি সার্টিফিকেট।
  • যেকোনো বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি।
  • ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন অনুলিপি।
  • চেকবুক পেজ।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করার নিয়ম

ব্যাংক লোন পাওয়ার সর্বশেষ ধাপ হলো লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করা। ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল প্রথমে ব্যাংক থেকে লোন এর আবেদন ফরম এমএফ পূরণ করতে হবে এবং লোন নেওয়ার কারণ ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে।

আপনাকে কত টাকা প্রয়োজন সব বিস্তারিতভাবে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আপনাকে চেক করতে হবে ইনস্টলমেন্ট কিভাবে করতে হয় এবং সুদের হার কি পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনার আবেদন সম্পূর্ণ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আপনাকে ইন্টারভিউয়ের জন্য কল করা হবে এবং আপনাকে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত আপনার লোনের কারণ কত টাকা লোন নিবেন কী কারণে লোন নিবেন তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে এবং আপনাকে যথাযথভাবে উত্তর দেওয়া হবে।

পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে আপনার তথ্যগুলো ভেরিফিকেশন করার জন্য লোক পাঠানো হবে আপনি যদি সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে পারেন তাহলে আপনার ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হবে এবং আপনাকে লোনের টাকা একাউন্টে প্রদান করা হবে।

শেষ কথা

ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম একটু বেশি কঠিন হলেও আপনি যদি আমাদের উপরের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করেন তাহলে খুব সহজে লোন পেয়ে যাবেন বলে ধারণা করে। সঠিকভাবে আবেদন করতে পারলে আপনার জীবন সঙ্গী হয়ে দাঁড়াবে ব্যাংক লোন। আশা করব আমাদের পুরো আর্টিকেল পড়ে ব্যাংক লোন নেওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন।