টুইটার কি? কিভাবে টুইটার ব্যবহার করতে হয়?

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবরা খবর পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের নিকট আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এর পাশাপাশি অন্যতম জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

কিন্তু সাধারণ জনগণ এই দুইটা সম্পর্কে অবগত নন ফেসবুকের পূর্বেই প্রচলিত হলেও তা জনগণের মনে স্থান করে নিতে পারেনি শুধুমাত্র এর ব্যবহার সম্পর্কে না জানার জন্যই। আজকে আমরা আপনাদের টুইটার কি এবং কিভাবে তা ব্যবহার করবেন তা নিয়ে বিশেষ কিছু আলোচনা করবো। যা জানার পর আপনি অবশ্যই টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলবেন এবং তা সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

টুইটার কি?

টুইটার হল একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তবে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি মেসেজিং, অডিও ও ভিডিও কলিং এর সুব্যবস্থা পাবেন না। এক বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের তথ্য আদান প্রদান করা হয়। তবে সচরাচর সারা বিশ্বের নামিদামি সেলিব্রেটিরা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এসেছে।

টুইটার একটি মাইক্রো ব্লগিং সাইট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে একটি বিশাল সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই মাইক্রব্লগিং ওয়েবসাইটে বর্তমানে প্রায় ৪০০মিলিয়ন রেজিস্টার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে আপনি নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো শব্দের টেক্সট মেসেজ পাঠাতে পারেন। কিন্তু টুইটারে আপনার জন্য তার একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে আপনি মাত্র 280 শব্দের মেসেজ টাইপ করতে পারবেন এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাতিক্রম।

টুইটার একাউন্ট খোলার নিয়ম

টুইটার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আপনাকে অবশ্যই এ কোর্ট সেবাগুলো রয়েছে তা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি তাই আলোচনায় অংশ আমরা টুইটারে ফিচার সম্পর্কে বেশ কিছু গোপন তথ্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব।

  • হ্যান্ডেলঃ টুইটার হ্যান্ডেল @ চিন্হের পরে অবস্থান যা সাধারণত ব্যবহারকারীর ইউজারনেম হিসেবে ব্যবহার করা হয় তবে মনে রাখবেন 15 অক্ষরের বেশি এই ইউজারনেম ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
  • নামঃ হ্যান্ডেল এর উপরে প্রদর্শিত নাম, যা একাউন্ট সার্চ করে খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।
  • প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটোঃ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন আপনি প্রোফাইল পিকচার কভার পিকচার আপলোড করতে হয় আপনাকে টুইটার একাউন্ট খোলার পূর্বে সময়ের সাথে সাথে অবশ্যই প্রোফাইল পিকচার কভার আপলোড করতে হবে।
  • বায়োঃ 160 অক্ষরের একটি বায়ো আপনাকে আপনার প্রোফাইলে সংযুক্ত করতে হবে এখানে আপনি আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।
  • ওয়েবসাইটঃ ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা সম্পর্কিত যেকোনো লিংক।

উপরের ফিচারগুলো যদি আপনি আকর্ষিত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি চাইবেন টুইটার ব্যবহার করতেন। টুইটার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই একটি অ্যাকাউন্ট খোলা জরুরি। এখন খেলার সময় আপনি একটি মোবাইল নাম্বার অথবা ই-মেইল অবশ্যই ব্যবহার করবেন এখন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে টুইটার একাউন্ট খুলতে হয় তার সম্পর্কে জানি।

Screenshot-2022-03-14-at-9-14-57-AM

  • একাউন খোলার লক্ষ্যে প্রথমে আপনাকে www.twitter.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
  • Sign Up অপশনে ক্লিক করুন।
  • একটি ইউনিক ইউজারনেম ব্যবহার করুন।
  • জন্মতারিখ ইমেইল অথবা মোবাইল নাম্বার নির্দিষ্ট স্থানে লিখুন।
  • সবশেষে এড প্রিফারেন্স সিলেক্ট করে “Next” বাটনে ক্লিক করুন।
  • একাউন্টের জন্য একটি পাসওয়ার্ড সেট করে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শেষ করুন।

এছাড়াও আপনি গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে খুব সহজেই কন্টিনিউ করে টুইটার একাউন্ট চালু করতে পারবেন।

টুইটার এর ফিচারসমূহ

আপনার টুইটার একাউন্ট টি খোলা সম্পন্ন হলে আপনি অবশ্যই চাইবেন তা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে। এজন্য আপনাকে টুইটার এর ফিচারসমূহ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী নিচের অংশে আমরা টুইটারের সকল ফিচার বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।

টুইটঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যা পোস্ট করে থাকে আপনি যদি টুইটারে কোন পোস্ট করে থাকেন তার টুইট হিসেবে প্রকাশ হয়। এই টুইট সর্বোচ্চ ২৮০অক্ষরের হতে পারে ও ছবি, ভিডিও, লিংক ইত্যাদি টুইট হিসেবে পোস্ট করা যায়।

ফলোঃ অন্যান্য সকল টুইটার ব্যবহারকারী নিয়মিত পোস্ট ছবি ও ভিডিও লিঙ্ক পেতে হলে আপনাকে তাকে ফলো করতে হবে এবং আপনিও যদি নিয়মিত পোস্ট করে থাকেন তাহলে আপনাকে মানুষ ফলো করবে।

হ্যাশট্যাগঃ যেকোনো শব্দের আগে হ্যাশ (#) চিন্হ যুক্ত হলে সেটিকে হ্যাশট্যাগ বলা হচ্ছে সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আপনি যদি পোস্ট করে থাকেন তাহলে অবশ্যই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন তাহলেই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার ফলে এই সম্পর্কিত যে যত পোস্ট রয়েছে তা আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে।

মেনশনঃ অন্য টুইটার ব্যবহারকারী ইউজার নেম ব্যবহার করে তাকে কোন পোষ্টের সাথে সংযুক্ত করা কে মেনশন করা বলা হয়। আপনি যদি কাউকে মেনশন করে থাকেন তাহলে উক্ত ব্যবহারকারী তার নোটিফিকেশন বার এ একটি নোটিফিকেশন পাবেন।

রিটুইটঃ এ ফিচারটি কে আপনি ফেসবুকে শেয়ার অপশন এর সাথে তুলনা করতে পারেন। অন্য একাউন্টের করা টুইট কে রিটুইট করলে তা নিজের ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছে।

টুইটার ব্যবহার

টুইটারের একাউন্ট অফিসার সম্পর্কে জানা সম্পূর্ণ হয়েছে এবার আপনি ব্যবহারের জন্য উপযোগী তবে ফেসবুক অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত টুইটার ব্যবহার করা মোটেও সহজ নয় আপনি যদি স্বল্প শিক্ষিত হয়ে থাকেন তাহলে এই দুইটার আপনার জন্য অন্যতম একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক টুইটারে কিভাবে ব্যবহার করতে হয়।

  • আপনি যদি কোনো পছন্দের ব্র্যান্ড অথবা কোনো ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে চান তাহলে তাদের ফলো করুন এর ফলে আপনি তাদের দেওয়া ছবি পোস্ট ইত্যাদি নিয়মিত অনুসরণ করতে পারবেন।
  • আপনি যাদের ফলো করেছেন তাদের টুইট বা পোস্ট যদি আপনার মজার মনে হয় তাহলে সেখানে গিয়ে রি-টুইট করতে পারেন এরই টুইট করার মাধ্যমে আপনি উক্ত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেবেন।
  • এছাড়া বর্তমানে টুইটারে Spaces নামে একটি ফিচার এসেছে যা মূলত মেসেঞ্জার রুমস এর মতো, কিন্তু শুধুমাত্র অডিও এর জন্য। অর্থাৎ কিছু ব্যক্তি কথা বলেন ও বাকিরা কনভার্সেশনে জয়েন করতে পারেন রিকুয়েষ্ট এর মাধ্যমে।