বিকাশ লোন নেওয়ার উপায় – ১০ হাজার টাকা ঋণ পাওয়ার নিয়ম

দেশের সর্বাধিক ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। যে ফিচারের মাধ্যমে একজন বিকাশ গ্রাহক হিসেবে আপনি টাকা লোন নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। 2021 সালের প্রথম দিকেই বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা করতে একটি নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে চুক্তি অনুসারে একজন গ্রাহক সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে 10000 টাকা ঋণ পাবেন। এই ঋণ গ্রহণ করতে কোন ধরনের জামানত গ্রহণ করা হবে না। আজকের আলোচনার মূল অংশ হলো বিকাশ লোন নেওয়ার উপায় 10000 টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

শুরুর দিকের 10000 টাকা ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা পরিবর্তন করে 20 হাজার টাকায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে। সুতরাং আপনারা যারা লোন নিতে ইচ্ছুক তারা বিকাশের সকল বিধিনিষেধ মেনে আমাদের দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করুন এবং সহজেই বিকাশ থেকে লোন নিন।

বিকাশ কত টাকা লোন দেয়?

লোন গ্রহণ করার পূর্বেই আপনাকে জানতে হবে। এ বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কত টাকা পর্যন্ত বিকাশ লোন দিয়ে থাকেন সাধারণত বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক ও এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার মাসিক ও বাৎসরিক ইনকাম এর উপর ভিত্তি করে লোন দিয়ে থাকেন। বিকাশ কর্তৃপক্ষ আপনার থেকে এমন একটি তথ্য সংগ্রহ করবে এবং তার ভিত্তিতে লোন প্রদান করবে।

বিকাশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও কয়েকটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে 500 টাকা থেকে 20 হাজার টাকা পর্যন্ত বিকাশে লোন দেওয়া হচ্ছে তবে আপনার লোন নির্ভর করবে আপনার ইনকাম এর উৎস উপর নির্ভর করে।

Screenshot-2022-03-23-at-10-58-23-AM

একজন ঋণগ্রহীতা হিসেবে আপনি অবশ্যই জানতে চাইবেন বিকাশ কত পরিমাণ সুদ গ্রহণ করে অর্থাৎ আপনার ঋণের উপর কত শতাংশ সুদ ধার্য করা হবে তা জানতে হবে। অন্যান্য ব্যাংক ও এনজিও মত 9 শতাংশ হারে সুদ প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি 1000 টাকা ঋণ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আপনাকে 9 টাকা সুদ দেওয়া লাগবে।

বিকাশে লোন নেওয়ার শর্ত

বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সিটি ব্যাংক করতে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে যা নিচের অংশে আলোচনা করা হলো আপনারা লোন নেওয়ার শর্তগুলো পর্যালোচনা করার পরে লোনের জন্য আবেদন করবেন।

Screenshot-2022-03-23-at-10-58-33-AM

  • বিকাশ শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য লোন নেওয়ার সুবিধা চালু করেছে অর্থাৎ সকল বিকাশ ব্যবহারকারীর এলন এর আওতাভুক্ত নয়।
  • আপনি সিটি ব্যাংক থেকে বিকাশের লোন পাওয়ার যোগ্য কিনা তা জানতে আপনাকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে এবং অ্যাপ চালু করে লোন অপশনে গেলে আপনি লোন নেওয়ার যোগ্য কিনা তা দেখানো হবে।
  • ইন্টারেস্ট রেট, প্রসেসিং ফি, লোন লিমিট, লোন পরিশোধের নিয়মাবলি, লোন পাওয়ার যোগ্যতা, এবং ক্রেডিট পলিসি নির্ধারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি ব্যাংক কর্তৃক সংরক্ষিত।

বিকাশে 10 হাজার টাকা লোন নেওয়ার নিয়ম

বিকাশে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে লোন নেওয়ার পদ্ধতি সেবা চালু হয়েছে আপনাকে অবশ্যই বিকাশ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হবে সুতরাং আপনি অবশ্যই আপনার স্মার্টফোনের গুগল প্লে স্টোর থেকে বিকাশ মোবাইল এপ্লিকেশন ইন্সটল করে নিন।

  • প্রথমে আপনার অ্যাপ টি ওপেন করুন এবং বিকাশ নম্বর ও পিন নম্বর প্রদান করে লগইন করুন।
  • More অপশনের ক্লিক করুন।
  • সেখানে আপনাকে বেশ কিছু তালিকা দেয়া হবে উক্ত তালিকা থেকে লোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্লিক করুন।
  • তথ্য শেয়ারের অনুমতি প্রদান করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
  • যেহেতু আপনি লোন নিতে চান তাহলে লোন নিন অপশনে ক্লিক করুন।
  • আপনি কত টাকা লোন নিতে চান তা নির্বাচন করুন।
  • আপনি কয় কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করবেন তা নির্বাচন করুন।
  • পরবর্তী ধাপে আপনি কত টাকা ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে নেক্সট অপশনে ক্লিক করুন।
  • লোন গ্রহণের নির্দেশনা ও শর্তাবলি সম্মতিসূচক সাবমিট করুন।
  • আপনার লোরদি কনফার্ম করতে বিকাশের পিন নম্বরটি প্রদান করুন।
  • “লোন নিতে ট্যাপ করে ধরে রাখুন” এ ট্যাপ করে ধরে রাখুন
  • উপরের দেওয়া তথ্যগুলো যদি আপনি যথাযথভাবে দিতে পারেন তাহলে আপনাকে নন প্রদান করা হবে এবং আপনার বিকাশ একাউন্টে লোনের টাকা জমা হবে।

বিকাশ ঋণ পরিশোধের নিয়ম

ঋণ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এমন অবস্থায় আপনি অবশ্যই চাইবেন আপনার ঋণ পরিশোধ করতে। কেননা বিকাশ কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট সময় ও কয়েকটি কিস্তির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করবে আপনি কি জানেন বিকাশের ঋণ কিভাবে পরিশোধ করতে হয় যদি না দেখে থাকেন তাহলে আপনার জন্য নিচের অংশ আমরা ধারাবাহিকভাবে তা আলোচনা করেছি।

  • লোন আবেদন করার সময়ও পরিশোধ করার সময় আপনার ড্যাসবোর্ডের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে।
  • গ্রাহক চাইলে লোন পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখে গ্রাহকের বিকাশ একাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অটো ডেবিট হিসেবে কেটে নেয়া হবে। অথবা, গ্রাহক চাইলে নির্দিষ্ট দিনের আগে নিজেই লোনের অর্থ পরিশোধ করতে পারেন, যার ফলে ইন্টারেস্টের খরচ কমে আসার সুবিধা পেতে পারেন।
  • গ্রাহক যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন তাহলে তার বিলম্ব বিল কাটা হবে।
  • বিলম্ব ফি’র হার লোনের পরিমাণের উপর বাৎসরিক ২%।

বিকাশের লোন নেওয়ার সুবিধা

একজন বিকাশ ব্যবহারকারী হিসেবে আপনি আবেদন করার সাথে সাথেই লোন পেয়ে যাবেন। অন্যান্য ব্যাংকের লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কাগজপত্র দাখিল করতে হয় কিন্তু বিকাশে লোড নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কোন ধরনের কাগজপত্র দাখিল করতে হবে না।

  • আবেদনকারীর তিন মাস মেয়াদি লোন পাবেন।
  • লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ব্যাংক একাউন্ট বা জামানত গ্রহণ করা হয় না।
  • আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে অটোমেটিক ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • ব্যাংকের কোন প্রসেসিং ফি নেই।

উপরের দেওয়া আলোচনার ভিত্তিতে আপনি সহজেই বিকাশের লোন নেওয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তবে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হয়ে থাকলে অবশ্যই আপনি তা আমাদের জানাবেন। আমরা আপনাকে সাহায্য করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব বিকাশ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সম্পর্ক স্থায়ী সমাধানের ওয়েবসাইটেই পাবেন।