অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম ২০২২

একজন মানুষের জন্মের পর রাষ্ট্র দ্বারা প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করে। জন্ম সনদ জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট এ সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে একজন মানুষের নাম সরকারি খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন 2004 অনুযায়ী শিশুর পিতা বা মাতা বা অভিভাবক বা নির্ধারিত ব্যক্তি জন্মের 45 দিনের মধ্যে জন্ম সংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধন এর নিকট প্রদানের জন্য অবশ্যই বাধিত থাকিবেন।

জন্মনিবন্ধন যেহেতু একটি তাই সঠিকভাবে আপনাকে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। আজকে আমরা আপনাদের দেখাবো কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে পূর্বে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন আপনার নিকটস্থ পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে করা হত।

কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ছোঁয়া বর্তমানে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আজকের আলোচনায় আমাদের মুখ্য বিষয় কিভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন, জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে কি কি প্রয়োজন এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদনের জন্য কত টাকা লাগে তার সংক্রান্ত সকল তথ্য।

জন্ম নিবন্ধন কেন প্রয়োজন?

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন এর নিয়ম অনুসারে আমরা জানতে পারি যে কোনো শিশু জন্মের 45 দিনের মধ্যেই অবশ্যই তাকে নিবন্ধিত হতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত জাতীয় পরিচয় পত্র আপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অপরিসীম।

  • আপনি যদি আপনার সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে চান তাহলে প্রথম অবস্থাতে তারা আপনার থেকে জন্মনিবন্ধনের সনদ পত্রের ফটোকপি চাইবে অর্থাৎ আপনার শিক্ষা জীবনের শুরুতেই জন্ম নিবন্ধন পত্রের জরুরি রয়েছে।
  • আপনার বয়স যদি 18 কম হয় এবং আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র না পেয়ে থাকেন এ অবস্থায় আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন এর সার্টিফিকেট ব্যবহার করে পাসপোর্ট-ভিসা ইত্যাদি সকল কাজে আবেদন ব্যবহার করতে পারবেন।
  • আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র চাইলে বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ভোটার আইডি কার্ড আবেদনের সময় জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয়।

বিদেশে জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্ম নিবন্ধন দেশে করা যাবে কি?

আপনাদের মাঝে অনেকে রয়েছেন যারা বিদেশে একসময় অবস্থান ছিলেন যেখানে তারা সন্তান জন্মদান করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে তারা সন্তান ও পরিবারসহ দেশে চলে এসেছেন এ অবস্থায় তারা তাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে চান। এখন তাদের প্রশ্ন হচ্ছে বিদেশের জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যায় কিনা। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে হ্যাঁ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে। সেক্ষেত্রে আবেদনের সময় বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রমাণ প্রদর্শন করে স্থানীয় ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।

পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কি আবেদন করা যায়?

জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর জন্ম তারিখ 2001 সালের পর হলে আবেদনের সময় পিতা-মাতার জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে 2001 সালের পূর্বে যদি আপনার জন্ম হয়ে থাকে তবে পিতা-মাতার জন্ম সনদ ছাড়াই আপনি জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ছোঁয়ায় বর্তমানে যে কোন ধরনের কাজ ঘরে বসে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে করা সম্ভব। জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কাজটি আপনি সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন। তবে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সঠিক নিয়মে কিভাবে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন সে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানি।

Screenshot-2022-03-21-at-7-26-33-AM


Screenshot-2022-03-21-at-7-26-44-AM
Screenshot-2022-03-21-at-7-26-54-AM
Screenshot-2022-03-21-at-7-27-11-AM

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনাকে নিচের (www.bdris.gov.bd) এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে।

এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর জন্ম সনদ সংগ্রহের জন্য তিনটি ক্যাটাগরিতে হবে জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা। দেশের বাইরে যদি অবস্থান করে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনি যদি বাংলাদেশ দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে এটি নির্বাচন করুন স্থায়ী ঠিকানা বর্তমান ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে আবেদন করার এই পর্যায়ে আবেদনকারীকে একটি ফাঁকা ফরম পূরণ করতে হবে এই ফর্মে মূলত আবেদনকারীর জন্ম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হয় যারা জন্ম সনদের আবেদন করা হচ্ছে তার সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রদান করতে হবে তা হল

  1. নিজের নাম বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতে।
  2. জন্মতারিখ।
  3. পিতামাতার কততম সন্তান তা উল্লেখ করতে হবে।
  4. জন্মস্থান এর সঠিক ঠিকানা (মনে রাখবেন জন্মস্থান এর ঠিকানা প্রদানের সময় ঠিকানাটি ধাপে ধাপে নির্বাচন করতে হবে অর্থাৎ আপনার জন্ম যদি রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার ইউনিয়নের হয় সে ক্ষেত্রে প্রথমে চট্টগ্রাম বিভাগ সিলেট করতে হবে এরপর জেলা এরপর আপনাকে উপজেলা তারপর আপনার পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন নির্বাচন করুন)

আবেদন ফরম পূরণ করা শেষ হলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

এখানে আপনাকে নতুন একটি ফর্ম দেওয়া হবে এভাবে ব্যবহারকারীর পিতা-মাতার তথ্য পূরণ করতে হবে। নিবন্ধন কার্ডের জন্ম সাল পিতা-মাতার জন্ম সনদ নাম্বার ইত্যাদি। যদি পিতা মাতার নাম লেখার অপশন চালু থাকে তাহলে নির্দিষ্ট স্থানে তেস্টবক্স গুলোতে মাতা ও পিতার নাম ইংরেজি ও বাংলায় লিখুন।

ফরম পূরণের এই অংশের নিবন্ধনকারী ঠিকানা প্রদান করতে হবে আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানায় ঠিকানায় হিসেবে ব্যবহার করতে চান। এর সাথে থাকা কোনোটিই নয় আসলে সিলেক্ট করুন এরপর জন্মস্থান এর ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা লেখার অপশন দেখতে পাবেন যথাযথভাবে তা প্রদান করুন।

এরপর আবেদনকারীর তথ্য প্রদান করতে হবে এখানে নিবন্ধনকারী বয়স যদি 18 বেশি হয় তবে নিজ অপশন সিলেক্ট করে নিজের জন্য জন্ম সনদের আবেদন করা যাবে নিবন্ধনকারী বয়স 18 কম হলে সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর সম্পর্ক এবং উক্ত ব্যক্তির ইমেইল নাম্বার কিভাবে লিখতে হবে।

নিবন্ধনকারী পরিচয় প্রমাণস্বরূপ যে কোন কাগজ সংযুক্ত করতে হবে file-upload শেষে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গেলে সকল তথ্য একইভাবে আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে এখান থেকে প্রদত্ত তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক কিনা তা আর একবার চেক করে নিন এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

আপনার জন্ম নিবন্ধন এর জন্য অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হয়েছে এরপর সাবমিট করার পর আবেদন নাম্বার দেয়া হবে এ নাম্বার ব্যাবহার করে আপনি আবেদন এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আবেদন করার শেষ হলে আবেদনপত্রের কাগজটি প্রিন্ট করে নিন এরপর আবেদনপত্রটি ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে জমাদান করুন জমাদান করার কিছু দিনের মধ্যেই আপনার জন্ম সনদ আপনি হাতে পেয়ে যাবেন।

জন্ম নিবন্ধন তৈরীর খরচ

45 দিন বা তার চেয়ে কম বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে একদম বিনামূল্যে। তবে আপনি যদি কোনো কারণে দেরি করে ফেলেন এক্ষেত্রে আপনার খরচ কিছুটা বাড়বে তবে এর পরিমাণ 25 থেকে 50 টাকা অথবা এক ডলারের আশেপাশে হতে পারে যেটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আপনার নিকটস্থ পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করে খরচ সম্পর্কে জানতে পারেন।