ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২২ (অনলাইন, অফলাইন)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ছোঁয়ায় আমাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। দৈনন্দিন জীবনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত এর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ব্যবহার করে থাকি। তবে বৃদ্ধির কারণে এখন আমরা নিজেদের গাড়ি কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

গাড়ি আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে তবে নিজস্ব গাড়ি থাকলে হবেনা এই গাড়ির বৈধতা প্রয়োজন গাড়ির বৈধতা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজকে আমরা আপনাদের এই ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ও কি কি কাগজ দরকার লাইসেন্সের জন্য তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার খরচ

আলোচনার প্রথম অংশে আমরা আপনাদের দেখাবো ড্রাইভিং লাইসেন্স করার খরচ কত হয় এটা জানার পরেই আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আগ্রহী হবেন। যানবাহনের ওপর নির্ভর করে লাইসেন্স করা হয় এবং টাকা নির্ধারণ করা হয় আপনি কি ধরনের গাড়ি ব্যবহার করছেন তার ওপর ভিত্তি করে নিচের অংশে আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স করার খরচ প্রদান করলাম।

  • আপনি যদি ড্রাইভিং নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য category1 প্রযোজ্য। অর্থাৎ যারা নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স তাদের জন্য এই ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য আপনাকে 340 টাকা প্রদান করতে হবে।
  • আপনার যদি গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে category2 আপনার জন্য প্রযোজ্য। কেননা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ড্রাইভার দের এই লাইসেন্স করার সুযোগ দেওয়া হয়। ক্যাটাগরি ২ এ আপনি রেজিস্ট্রেশন করতে হলে আপনার খরচ পড়বে  ৫১৮ টাকা।
  • আপনি যদি একজন পেশাদার ড্রাইভার হিসেবে নিয়োজিত থাকেন তাহলে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে খরচ হবে প্রতি মাসে ১৬৮০ টাকা চার্জ হিসেবে কাটা হবে।
  •  আপনি যদি অপেশাদার হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে ২৪৪২ টাকা জমা দিতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম 

ওপরের অংশে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার খরচ সম্পর্কে জানা গেল। এখন আমরা আপনাদের দেখাবো কিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে সাধারণত দুই পদ্ধতিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা সম্ভব অনলাইন-অফলাইন। আমরা নিচের অংশে দুইটি পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

অফলাইন

  • অফলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার মধ্যে একটু জটিলতা রয়েছে আপনাকে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে প্রথমে আপনাকে বিআরটিএ(BRTA) অনুমোদিত অফিস সমূহে যেতে হবে।
  • তবে বিআরটিএ অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র জন্ম নিবন্ধন কপি অথবা পাসপোর্ট এর কপি সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে।
  • সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • অনুমোদিত কোন ডাক্তারের থেকে রেজিস্টার্ড সনদপত্র।
  • অতঃপর কর্তৃপক্ষ থেকে আপনাকে একটি আবেদন ফরম জমা দেয়া হবে সেখানে আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত সকল তথ্য প্রদান করতে হবে।
  • আবেদন ফরম পূরণের পর আপনি যে ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স করতে চান তা নির্বাচন করে ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো লাগবে।
  • অভিজ্ঞতা হিসেবে ড্রাইভিং শেখার ৩ মাসের অধিক ড্রাইভিং করার সনদের পাশাপাশি  আপনাকে লিখিত এবং মৌলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • আপনার দেওয়া সকল তথ্য ও রশিদ যদি ঠিক থাকে তাহলে আপনাকে পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে পুনরায় ডাকা হবে।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন আমরা ঘরে বসে থেকে যেকোনো ধরনের কাজ ইন্টারনেট ব্যবহার করে করতে পারি। আপনি যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান তাহলে ইন্টারনেট থেকে আবেদন ফরম টি ডাউনলোড করে তা পূরণ করে ঘরে বসে থেকেই আবেদন সম্পূর্ণ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে আমরা নিচের অংশে আলোচনা করেছি আমরা আশা করবো আপনি এখান থেকে অনুসরণ করবেন এবং আপনার অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পন্ন করবেন।

  • ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে করার উদ্দেশ্যে প্রথমে আপনাকে বিআরটিএর অফিশিয়াল www.brta.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
  • পরবর্তী ধাপে আপনাকে জাতীয় পরিচয় পত্র জন্ম নিবন্ধন অথবা পাসপোর্ট এর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
  • এরপর আপনার কাছে আবেদন ফরম উপস্থিত হবে যথাস্থানে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে প্রদান করুন।
  • ফর্ম এর সাথে জমা দিতে হবে ২ কপি ছবি। তবে ছবির ক্ষেত্রে ছবির আয়তম অবশ্যই ৩০০×৩০০ হতে হবে।

  • বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ যেকোনো মেডিকেল অফিসার এর স্বাক্ষর সম্বলিত সনদের ফটোকপি নির্ধারিত স্থানে আপলোড করুন।
  • আপনি কোন ধরনের লাইসেন্স ব্যবহার করতে চান তা নির্বাচন করুন এবং সে অনুসারে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত টাকা ব্যাংকে গিয়ে জমা দেন।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্সের এর জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্বে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে। লাইসেন্স করতে হলে  হবে এ,তার জন্য নূন্যতম ড্রাইভিং ৩ মাস শেখার সনদ এর পাশাপাশি লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • আপনার দেয়া তথ্যগুলো যাচাই করে অতি শীঘ্রই বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ করতে আপনাকে কল করা হবে এবং আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি দেওয়া হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম 

আপনারা চাইলে খুব সহজেই অনলাইন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আপনাদের সাহায্য করার লক্ষ্যে আমরা বিআরটিএ অফিস থেকে অফিশিয়াল যে ফ্রম রয়েছে তা এখানে আপলোড করেছি।

Screenshot-2022-03-16-at-10-56-38-AM


Screenshot-2022-03-16-at-10-56-47-AM

অনলাইন ফরম:

  • আপনি বিআরটিএর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেখান থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আবেদন ফরম অনলাইন থেকে বের করার জন্য প্রথমে বিআরটিএর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স অপশন নির্বাচন করুন।
  • যেহেতু আপনি সংগ্রহ করতে চাই ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম অপশনে ক্লিক করা মাত্রই অনলাইন পিডিএফ ফাইলটি আপনার সামনে উপস্থিত হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা পদ্ধতি

আপনার আবেদন ফর্মটি বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রক্রিয়াধীন থাকবে অতঃপর আপনাকে পরীক্ষার জন্য ডাক দেওয়া হবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আমি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য চূড়ান্ত হবে।

সাধারণত দুইটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এবং আপনাকে দুইটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে চূড়ান্তভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের যোগ্য বিবেচিত হবেন।

লিখিত পরীক্ষা:

প্রথমে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় 100 নম্বরের উপর ভিত্তি করে নৈবিত্তিক প্রশ্নের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় আপনি আপনার নিকটস্থ বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে এবং সেখানে আপনাকে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে মনে রাখবেন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আপনি ভাইবা পরীক্ষার জন্য আমন্ত্রিত হবেন।

মৌখিক পরীক্ষা:

এছাড়াও আপনি মৌলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে আপনাকে ট্রাফিক চিহ্নসমূহে ভালো ধারণা রাখতে হবে। মূলত মৌখিক পরীক্ষায় ক্ষেত্রে প্রশ্নসমূহ ট্রাফিক চিহ্নসমূহের উপর করা হয়। আপনাকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে সেই চিহ্ন সমূহের উপর পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হবে।