বাচ্চাদের ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২

বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে শুধুমাত্র 18 বছরের বয়স কত নাগরিক যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে তাদের পাসপোর্ট সেবা চালু করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে অনেক ব্যক্তি রয়েছে যার 18 বছর হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয় পত্র বিভিন্ন জটিলতার কারণে হাতে পায়নি এ অবস্থায় তারা পাসপোর্ট করতে আগ্রহী।

তবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তারা পাসপোর্টের আবেদন করতে পারছে না। আজকে আমরা দেখাবো আপনাদের বাচ্চাদের অনলাইনে কিভাবে পাসপোর্ট করতে হয়। জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়াই আপনি এই আবেদন করতে পারবেন তাই সময় নষ্ট না করে আমাদের দেওয়ার নির্দেশনা অনুসরন করুন এবং আপনার পাসপোর্ট এর আবেদন করুন।

ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

আপনি যদি ছোট বাচ্চা হয়ে থাকেন অথবা অভিভাবক হিসেবে আপনার বাচ্চার পাসপোর্ট করতে চান। তাহলে আপনার এই কাজের জন্য বেশকিছু তথ্যের প্রয়োজন হয় আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে আমরা ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তার নিচের অংশে প্রকাশ করলাম।

  • জন্ম নিবন্ধন সনদের ডিজিটাল ফটোকপি।
  • পিতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
  • মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
  • কোন বিশেষ প্রয়োজনে আপনার সাথে যোগাযোগের জন্য নিকটস্থ কোনো আত্মীয় নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
  • ছবি (৬ বছরের কম বয়সী হলে)।
  • এনওসি – NOC বা অনাপত্তি পত্র (সরকারি/ আধা সরকারি/ স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরীজীবির সন্তানের ক্ষেত্রে)।
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের এ চালান কপি।

জন্ম নিবন্ধন

বাচ্চাদের পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দরকারি যে জিনিসটা হল জন্ম নিবন্ধন। বর্তমানে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের 17 ডিজিটের একটি নম্বর থাকে এই নম্বর ব্যবহার করে আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তাই আপনি যখন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করবেন তখন অবশ্যই জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।

পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র

বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট নীতি অনুসারে 6 থেকে 20 বছরের ব্যক্তির পাসপোর্ট করার জন্য জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করা হলেও পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি অত্যন্ত জরুরী। ই পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার সময় এক্টিভ ফাঁকা জায়গা দেয়া হবে যেখানে আপনার পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর প্রদান করার কথা বলা হবে। আপনাকে অবশ্যই যথাযথভাবে নির্দিষ্ট স্থানে আপনার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর প্রদান করবেন।

জরুরী যোগাযোগ

পিতা ও মাতার পরিচয় পত্র ছাড়াও বিশেষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় আপনার যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে এই অবস্থায় দেশে যোগাযোগ করার জন্য নিকটস্থ কোনো আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে কোন আত্মীয়র নাম মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা প্রদান করতে হবে।

ছবি

আবেদনকারীর বয়স যদি ছয় বছরের কম হয়ে থাকে তাহলে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপির উপরের বাম পাশে আঠা দিয়ে সংযুক্ত করতে হবে। শিশুর বয়স ৬ বছরের বেশি হলে তার প্রয়োজন নেই।

এনওসি- NOC

যদি আপনি সরকারি/ আধা সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরীজীবি হন, আপনার সন্তানের পাসপোর্ট করার জন্য অবশ্যই আপনার ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি অনাপত্তি সনদ বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিতে হবে।

ফি পরিশোধের চালান

বাচ্চাদের জন্য পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে চালান ফরম অত্যন্ত জরুরি যা অনলাইনে পাওয়া সম্ভব। অনলাইনে সরাসরি এ চালান অ্যাপ থেকে বা ওয়েবসাইট থেকেও ডেবিট কার্ড, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে পারবেন। তাছাড়া আপনি নিকটস্থ যেকোনো ব্যাঙ্ক থেকে সরাসরি চালান ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন তবে মনে রাখবেন পোস্ট অফিসের সকল কাগজপত্র জমা দানের সময় অবশ্যই চালান ফরম এর কপি সংযুক্ত করতে হবে।

অনলাইনে নতুন ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার পূর্বে আপনাকে প্রথমেই জেলা অফিস ও থানা নির্বাচন করে ই-পাসপোর্ট এর আওতাভুক্ত কিনা তা যাচাই করতে হবে।

Screenshot-2022-03-14-at-7-00-05-PM


Screenshot-2022-03-14-at-7-00-14-PM
Screenshot-2022-03-14-at-7-00-26-PM

  • প্রথমেই ভিজিট করুন www.epassport.gov.bd/applications এই ওয়েবসাইটে।
  • ডাইরেক্টলি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন অপশন এ ক্লিক করুন তাহলে আপনার জেলা ও থানা নির্বাচনের অপশনটি প্রদর্শিত হবে।
  • এরপর আপনাকে একটি ইমেইল আইডি প্রদান করতে হবে মনে রাখবেন আপনার ইমেইল আইডি পাসওয়ার্ড যেন আপনার সন্নিকটেই থাকে।
  • পাসপোর্ট এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে তা যথাযথভাবে নির্দিষ্ট স্থানে প্রদান করুন।
  • পরবর্তী ধাপে আপনাকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া হবে নির্দিষ্ট স্থানে সঠিক ভাবে আপনার সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসারে নাম পিতার নাম ঠিকানা ইত্যাদি প্রদান করুন।
  • আপনার যদি জাতীয় পরিচয় পত্র না থেকে থাকে অর্থাৎ আপনি 18 বছরের কম বয়সী হলে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি নম্বর রয়েছে তা ব্যবহার করে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • আপনার পূর্বের কোন পাসপোর্ট থাকলে Yes দিন আর না থাকলে No, I don’t have any previous/ handwritten passport।
  • আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিক ভাবে যাচাই করে তা লিখুন।
  • এবার আপনার পাসপোর্টের ধরন, পাতা ও ডেলিভারী সাধারণ বা জরুরী বাছাই করুন।
  • সবশেষে আপনার দেয়া তথ্যগুলো যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে তা যাচাই করুন এবং সাবমিট করুন।

ই পাসপোর্ট ফি প্রদান ও আবেদন প্রিন্ট

অনলাইনে তথ্য দিয়ে আপনি ই পাসপোর্ট এর আবেদন সম্পন্ন হলে আপনাকে ফি প্রদান ও আবেদন কপি প্রিন্ট আউট করতে হবে। 1) Application Summery, 2) Online Registration Form. এগুলো আপনি প্রিন্ট করে নিতে পারেন বা পিডিএফ ফাইল হিসেবে আপনার কম্পিউটারে সেইভ করতে পারেন।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন আপনি ঘরে বসেই পাসপোর্টের ফি জমাদান করতে পারবেন তাই বিকাশ থেকে সহজেই ই পাসপোর্ট ফি জমাদান করুন।

ওপরের অংশে আমরা পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত সকল তথ্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন চেষ্টা করেছে যা কোন ধরনের অবৈধ নয় তাই আপনি পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের দালাল থেকে বিরত থাকবেন এবং নিজ ইচ্ছায় অফিশিয়াল ভাবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন।

পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোন বিষয় আপনাদের প্রশ্ন থাকলে আমাদের নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা আপনার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।