নাটকীয় ফাইনালে সাকিব-গেইলদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

By | March 10, 2022

বিপিএলের সাত আসরে দুইবার শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এর মধ্যে ২০১৯ আসরে ইমরুল কায়েসের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ফের তার নেতৃত্বে ট্রফি জিতল দলটি। বিপিএলের অষ্টম আসরের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ফরচুন বরিশালকে ১ রানে হারিয়েছে কুমিল্লা।

 

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে সূচনালগ্নেই হোঁচট খায় বরিশাল। দলীয় ৫ রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ইনফর্ম মুনিম শাহরিয়ার। তবে ওয়ানডাউনে নেমে ক্রিস গেইলকে নিয়ে সেই ধাক্কা সামলে ওঠেন সৈকত আলি। এদিন প্রাণবন্ত ব্যাটিং করেন তিনি। স্ট্রোকের ফুলঝুরি সাজিয়ে ৩৪ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় রান করেন সৈকত। মূলত এতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় তারা। 

 

পরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গেইল। হাত খুলে খেলতে থাকেন তিনি। তবে তার ঝড় বেশিক্ষণ থাকেনি। ৩১ বলে ১ চারের বিপরীতে ২ ছক্কায় ৩৩ রান করে ফেরত আসেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। সেই অবস্থায় ক্রিজে এসে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সাকিব। মোস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ ক্যাচ হন তিনি। এতে খেলা জমে ওঠে। 

 

এই পরিস্থিতিতে খেলা ধরার চেষ্টা করেন নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তারা। কিন্তু হঠাৎ রানআউট হয়ে ফেরেন নুরুল। সেই রেশ না কাটতেই নারাইনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন ডোয়াইন ব্রাভো। ফলে ম্যাচ দুই দিকেই হেলে পড়ে।

 

তবে শেষদিকে স্নায়ুচাপ সামলাতে পারেননি বরিশালের টেলএন্ডাররা। খানিক ব্যবধানে মোস্তাফিজের এলবিডব্লিউ হন শান্ত। এরই মধ্যে রানআউট হন মুজিব। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বরিশালের দরকার হয় ১০ রান। ভরসা হয়ে ক্রিজে ছিলেন তরুণ তৌহিদ হৃদয়। তবে স্নায়ুর খেলায় হেরে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫০ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল।

 

এতে ১ রানের টানটান উত্তেজনার জয়ে জয়োৎসবে মাতে কুমিল্লা। দলটির হয়ে নারাইন ও তানভীর ইসলাম শিকার করেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে নেন মোস্তাফিজ ও শহিদুল।  

 

শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। তবে শুরুটা শুভ করতে পারেননি লিটন। সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। দ্রুত রানআউটে কাটা পড়েন মাহমুদুল হাসান জয়।

 

কিন্তু অপর প্রান্তে তাণ্ডব চালান সুনিল নারাইন। এতে পাওয়ার প্লেতেই ২ উইকেট হারিয়ে ৭৩ রান তুলে ফেলে কুমিল্লা। পথে মাত্র ২১ বলে ফিফটি তুলে নেন নারাইন। যা বিপিএল ফাইনাল ইতিহাসে দ্রুততম। আগের রেকর্ডটি ছিল ২৬ বলের। ২০১৯ আসরের ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে কুমিল্লার বিপক্ষে সেই নজির স্থাপন করেন রনি তালুকদার।  

 

কিন্তু ৫৭ রান করে মেহেদী হাসান রানার বলে নারাইন ফিরলে বিপদে পড়ে দলটি। দ্রুত ফেরেন ফ্যাফ ডু প্লেসি, ইমরুল ও  আরিফুল হক। এর মধ্যে প্লেসি-আরিফুলকে তুলে নেন মুজিব উর রহমান।

 

পরে আবু হায়দার রনিকে নিয়ে দলকে তোলার চেষ্টা করেন মঈন আলি। সতীর্থের কাছ থেকে যোগ্য সমর্থনও পান তিনি। ৫১ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন তারা। ২৭ বলে ১৯ রান করে ফেরেন রনি। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মঈন। রানআউট হয়ে ফেরার আগে ৩২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন তিনি। 

 

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫১ রান করে কুমিল্লা। বরিশালের হয়ে মুজিব ও শফিকুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *