নারাইন তাণ্ডবে চট্টগ্রামকে উড়িয়ে ফাইনালে কুমিল্লা

সুনীল নারাইন কি ব্যাটিংয়ের ধার হারিয়েছেন? নাহয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ভেঙ্কেটেশ আইয়ারকে রিটেন করিয়েও নিতিশ রানা, আজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে অ্যালেক্স হেলসের মতো ওপেনার কিনতে কেন নিলামে ঝাপিয়ে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স? আইপিএলের আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে ওপেনিংয়ে জায়গা পেয়েই রুন্দ্রমূর্তি ধারণ করলেন নারাইন। ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে যেন এই বার্তাই দিলেন, ফুরিয়ে যাননি তিনি।

 

বিপিএলে রেকর্ডের পাতা তছনছ করেছেন তিনি। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতক করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে বলে পঞ্চাশ করার রেকর্ড গড়েন এই ক্যারিবীয়। নারাইনের ব্যাটিং ঝড়ে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আগে ব্যাট করে ১৪৮ রানের সংগ্রহ পায় অধিনায়ক আফিফ হোসেনের দল। ১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নারাইনের ১৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে ৭ উইকেটের বিশাল জয় পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

 

৪৩ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ের ফলে ফাইনালের টিকিট পেল কুমিল্লা। যেখানে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মেগা ফাইনালে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে লড়বে ইমরুল কায়সের দল।

 

লক্ষ্য আহামরি বড় ছিল না। ফাইনালের টিকিট পেতে কুমিল্লার ১২০ বলে দরকার ছিল ১৪৯ রান। চট্টগ্রামের পেসার শরিফুল ইসলাম ইনিসের প্রথম বলে লিটন দাসকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর নারাইন ব্যাট হাতে যে তাণ্ডব চালালেন, তা রীতিমতো দুঃস্বপ্ন হয়ে নেমে আসে চট্টগ্রাম শিবিরে। শরিফুলকে ছক্কায় উড়িয়ে শুরু তার তাণ্ডব। ওই ওভারেই চলে আসে আরো দুই চার। 

 

দ্বিতীয় ওভারে নারাইনের তোপের মুখে পড়েন মিরাজ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ডিপ কভার দিয়ে দুই ছক্কা হাঁকান তিনি। চতুর্থ বলে ওই একই জায়গা দিয়ে চার। পঞ্চম বলে মিরাজকে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি ব্যাটার। ২ ওভারেই কুমিল্লার রান ৪৩। নারাইন যতক্ষণে থামলেন, ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে চট্টগ্রাম। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতক করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে বলে পঞ্চাশ করার রেকর্ড গড়েন এই ক্যারিবীয়।

 

পরে ৫টি চার ও ৬ ছক্কায় মাত্র ১৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন নারাইন। ইমরুল কায়েস ২৪ বলে ২২ রান করে হাওয়েলের শিকার হলেও বড় জয় আটকানো যায়নি কুমিল্লার। ফাফ ডু প্লেসির ২৩ বলে অপরাজিত ৩০ রানের সঙ্গে মঈন আলীর শেষদিকে ১৩ বলে ৩০ রানের তাণ্ডবে ৭ উইকেটের বিশাল জয় পায় কুমিল্লা। এই জয়ের ফলে ফাইনালের টিকিট পেল কুমিল্লা। যেখানে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে বরিশালের বিপক্ষে লড়বে কুমিল্লা।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উইল জ্যাকস আর জাকির হাসানের ব্যাটে ভালো শুরু পায় চট্টগ্রাম। তবে সেই তালটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি দুই জন। ২২ বলে তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৩১ রান। শহিদুলের বলে ৯ বলে ১৬ রান করা জ্যাকস আউট হলে ভাঙে এই জুটি। জাকির অবশ্য দেখে শুনে খেলতে গিয়েই ফেরেন সাজঘরে। মঈনের প্রথম শিকারে যখন পরিণত হন তিনি, তখন নামের পাশে ১৯ বলে ২০ রান।

 

দুই ওপেনারের মাঝে আরো একটি বড় উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। আগের ম্যাচটি জেতানোর নায়ক চ্যাডউইক ওয়ালটন ফেরেন মাত্র ২ রান করে। এরপর আফিফ হোসেন (১০), শামীম পাটোয়ারীও (০) সুবিধা করতে পারেননি মঈনের সামনে। এতে দলীয় স্কোর পঞ্চাশ ছুঁতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে চট্টগ্রাম। এতে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়।

 

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে অবশ্য দলকে টেনে তোলেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর আকবর আলি। ৪০ বলের জুটিতে দুই জন যোগ করেন ৬১ রান। দারুণ ব্যাট করতে থাকা আকবর রনিকে তুলে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ২০ বলে ৩৩ রান করে। যেখানে সমান ২টি করে চার-ছক্কা মারেন তিনি। আকবরের আউটের পর বেনি হাওয়েল রান আউটে কাটা পড়েন ৩ রান করে।

 

শেষদিকে ৩টি চার ও ২টি ছয়ে মিরাজের ৩৮ বলে ৪৪ রানের ইনিংসের সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়ের ৯ বলে ১৫ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ওভারের আগেই অলআউট চট্টগ্রাম ১৪৮ রানের সংগ্রহ পায়। কুমিল্লার হয়ে তিন ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেন নেন মঈন। শহিদুল ৩ উইকেট নিতে খরচ করেন ৩৩ রান।