রেড মিট: মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি কেন?

অ্যালকোহল বা চর্বিযুক্ত খাবার ছাড়াও শুধু মাংস খাওয়ার কারণেও যকৃতে জমতে পারে চর্বি।

 

‘ননঅ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) হতে পারে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

 

বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয় ছাড়াও সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল বলছে, মাংস বিশেষ করে ‘রেড মিট’ বা গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ – এই ধরনের প্রাণীর মাংস খাওয়ার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেল্থ’য়ের যৌথ উদ্যোগে করা গবেষণাটি প্রকাশিত হয় ক্লিনিকাল নিউট্রিশন সাময়িকীতে।

 

প্রায় দুই যুগ ধরে করা ৭৮ হাজার মানুষের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। 

 

দেখা গেছে যারা প্রতিদিন বা প্রতিবেলায় মাংস খান তাদের তুলনায়, প্রতি সপ্তাহে এক বেলা বা তারও কম রেড মিট গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের এনএএফএলডি’তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চাইতে অনেক কম।

 

যদিও গবেষণায় দেখা গেছে প্রক্রিয়াজাত কিংবা অপ্রক্রিয়াজাত মাংসের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ একই।

 

এমনকি মাংসের সঙ্গে সম্পূর্ণ শষ্য ধরনের খাবার গ্রহণ করলেও এই রোগ হওয়ার শংকা থাকে। তারপরও ঝুঁকির মাত্রা কমাতে অপ্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়াই ভালো। কারণ যে কোনো প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টা চলেই আসে।   

 

“প্রক্রিয়াজাত ও অপ্রক্রিয়াজাত রেড মিট এনএএফএলডি’র ঝুঁকি বাড়াতে কীভাবে কাজ করে সেজন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন”, ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই গবেষণার প্রেক্ষিত্রে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ক্রিস্টিন কির্কপ্যাটরিক।

 

‘স্কিনি লিভার’ বইয়ের এই লেখক আরও বলেন, “তাই সুস্থ থাকতে উদ্ভিজ্জ খাবার বেশি খাওয়ার পাশাপাশি পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেইট, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি ‘রেড মিট’ যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। আর সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট।”

 

‘ইউ.এস. ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডায়াবেটিস অ্যান্ড কিডনি ডিজিজ’য়ের তথ্যানুসারে এনএএফএলডি’তে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হৃদরোগ, টাইপ টু ডায়াবেটিস-সহ নানান ধরনের দীর্ঘমেয়াদী রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

 

সাধারণভাবে এনএএফএলডি’র কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে অবসাদের সঙ্গে পেটের উপরিভাগে ডানদিকে ব্যথা হতে পারে। তাই এই লক্ষণ ছাড়াও যদি কোনো প্রকার সন্দেহ মনে কাজ করে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।