৩৭ বছর পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বান্দুংয়ের জলক হারুপাত স্টেডিয়ামে বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাচ গোল শূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। শুরুতেই ম্যাচ জুড়ে একের পর আক্রমণ করে ইন্দোনেশিয়া। তবে তেমন সুবিধা করতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের রক্ষণও তা দারুণ ভাবে ঠেকিয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই পারলো না গোলের মুখ খেলতে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগে ড্র’তে প্রস্তুতি সারল হাভিয়ের কাবরেরার দল।

 

এর আগে ৩৭ বছর আগে ১৯৮৫ সালে একবার ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে সপ্তম দেখায় চার জয় ইন্দোনেশিয়ার, একটি বাংলাদেশের এবং বাকি দুটি ড্র। পুরো ম্যাচ জুড়েই আধিপত্য দেখিয়েছে ১৫৯তম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার। বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেও নিখুঁত ফিনিশিং না হওয়ায় পারেনি গোলের মুখ খুলতে। তিনবার দারুন সেভ দিয়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন আনিসুর রহমান জিকো।

 

রক্ষণে বিশ্বনাথ, বাদশা, ইয়াসিনরা করেনি কোনো ভুল। যেকারণে ইন্দোনেশিয়াকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। ১৮৮তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের আক্রমণ ভাগ পারেনি তেমন সুযোগ তৈরি করতে। রক্ষণ আগলে প্রতি আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনায় নামলেও তা কাজে লাগাতে না পারলেও রক্ষণে ইন্দোনেশিয়াকে কোনো সুযোগ দেয়নি।

 

১১ মিনিটে ভাল সুযোগ তৈরি করলেও জিকোকে পরাস্ত করতে পারেনি ফাসরুদ্দিন। বাম প্রান্ত থেকে নেওয়া আসনাওয়ি ম্যাংকুয়ালামের লম্বা থ্রো-ইন থেকে ফাসরুদ্দিনের হেড গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন। ১৩ মিনিটে আবারো বাংলাদেশকে রক্ষা করেন জিকো। বক্সের ডান দিকের কোণা থেকে সাদ্দিল রামদানির বাম পায়ের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে আটকে দেন জিকো।

 

২১ মিনিটে সতীর্থের ডিফেন্স ছেড়া পাস থেকে স্টিফেনো জানজি বক্সে ঢুকে শট নিলেও আগুয়ান গোলকিপার জিকোর শরীরে লেগে বাইরে চলে যায়। ২৫ মিনিটে প্রথমনারের মত ইন্দোনেশিয়ার পোস্টে শট নেয় বাংলাদেশ।  বক্সের বাইরে থেকে রাকিবে হোসেনের জোরালো শট গোলকিপারের গ্লাভসে গিয়ে জমা পড়ে।

 

জামালের ফ্রি-কিকে ৫৪ মিনিটে সাজ্জাদ জটলা থেকে শট নিলেও তা ব্লক হয়। ৬৬ মিনিটে সাদ্দিলের ফ্রি-কিক স্টিফেনো জানজি ফাঁকায় থেকে নেওয়া হেড গোলকিপার জিকো ফিস্ট করে প্রতিহত করেন। ৭৩ মিনিটে ইন্দোনেশিয়া একবার জালে জড়ালেও অফসাইডে তা আর হয়নি। শেষ দিকে মুহাম্মদ দিমাসের হেড ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে গেলে স্বস্তি পায় বাংলাদেশ। গোল শূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।