নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল আইপিএল

১৫তম আসরে এসে নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা পেলো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুললো প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে আসা গুজরাট টাইটান্স।

 

আইপিএলের অভিষেকেই ২০০৮ সালে প্রয়াত কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের সময় প্রথম শিরোপা জেতে রাজস্থান রয়্যালস। এরপর আর আইপিএলের ফাইনালে ওঠা হয়নি। অভিষেক আসরে যেমন রাজস্থান শিরোপা ঘরে তোলে ঠিক তেমনিভাবে নিজেদের অভিষেককে শিরোপা দিয়ে রাঙিয়ে রাখলো গুজরাট। 

 

টস হেরে বোলিংয়ে নেমে রাজস্থানকে ১৩০ রানেই আটকে রেখে অর্ধেক কাজ সেরে রেখেছিলেন হার্দিক পান্ডিয়ারা। রাজস্থানের মামুলি সংগ্রহ গুজরাট টপকে গেছে ৭ উইকেট ও ১১ বল হাতে রেখেই। ফলে ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পর আবার নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখল আইপিএল। ২০০৮ সালে রাজস্থানের পর প্রথমবার আইপিএল খেলতে এসেই শিরোপা জিতল গুজরাট।

 

রোববার (২৯ মে) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালস আগে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান করে। জবাবে ১৮.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় গুজরাট।

 

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেলে আসা টাইটান্সের বোলাররা ম্যাচের শুরু থেকে রাজস্থান ব্যাটারদের টুটি চেপে ধরেছিলে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে রাজস্থান ওপেনার জয়সোয়ালকে সাজঘরে ফিরিয়ে শুরুটা করেছিলেন যশ দয়াল। আউট হওয়ার আগে জয়সোয়াল ১৬ বলে ২২ রান করেন।

 

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের সেঞ্চুরিয়ান বাটলার যথারীতি ধীরস্থির শুরু করেছিলেন। কিন্তু আজ আর ঝড় তুলতে পারেননি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহক এই ব্যাটার। ইনিংসের ১৩ ওভারে পান্ডিয়ার বলে ফিরে গেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৫ বলে ৩৯ রান করে।

 

চার ওভার করে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেয়া পান্ডিয়ার অপর দুই শিকার রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন (১৪) এবং শিমরন হেটমায়ার (১১)। রাজস্থানের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড একাই ভেঙে দিয়েছেন টাইটান্স অধিনায়ক।

 

রাজস্থানের বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেউই আর বলার মতো কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে ফাইনালে বোলারদের জন্য বড় কোনো পুঁজি সংগ্রহ করা হয়নি ১৪ বছর পর শিরোপা ক্ষুধা মেটানোর আশায় থাকা রাজস্থানের।

 

রাজস্থানের দেয়া লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৯ রানে ঋদ্দিমান সাহাকে ফেরত পাঠান প্রাসিদা কৃষ্ণা। ১৪ রান পর দলীয় ২৩ রানে ম্যাথিউ ওয়েডকে ফেরত পাঠান ট্রেন্ট বোল্ট। তৃতীয় উইকেটে শুভমান গিল ও অধিনায়ক পান্ডিয়া গড়েন ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

 

দলীয় ৮৬ রানে হার্দিক পান্ডিয়া চাহালের শিকার হয়ে ফিরলেও অন্যপ্রান্তে অবিচল খেলতে থাকেন শুভমান গিল। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৪৫ রান করে দলকে জয় উপহার দিয়ে মাঠ ছাড়েন গিল।