৫ বছর পর আবাহনীকে হারাল মোহামেডান, বিতর্কে জড়িয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান

Shakib kicks stump

ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছিল। পরে বৃষ্টি আইনে ১৬ রানে জিতে যায় মোহামেডান। মোহামেডানের ১৪৭ রানের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যে আবাহনীর রান ৫.৫ ওভারে ৩১। মোহামেডানের জন্য তখন খেলা বন্ধ হওয়া আশীর্বাদ সরুপ। ৫ বছর সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে অন্তত হারানো যাবে আজকে!

এই ঝিরঝির বৃষ্টিতে ক্রিকেট মাঠের খেলা বন্ধ করার দৃশ্য খুব নজির। কিন্তু আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান হুট করে বোলার শুভাগত হোমকে থামিয়ে দিলেন এবং কভার নিয়ে আসার ডাক দিলেন। বোলার এর সঙ্গে-সঙ্গে পুরো গ্যালারী অবাক। উইকেট রক্ষক ইরফান শুক্কুর বিস্মিত। প্রতিবাদী সাকিব দুই হাত তুলে এগিয়ে এলেন আম্পায়ারের দিকে। এরপর সাকিব তিন স্টাম্প তুলে আছাড় দিলেন! গ্যালারী অবাক, কারণ এই ধরনের ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে খুব বিরল।

sakib vs khaled mahmud sujon

সাকিব ও খালেদ মাহমুদ সুজনের মধ্যে বিতর্ক

সাকিব প্রচন্ড রেগে গেলেন। কোনো কিছুই তার রাগ থামাতে পারছিল না। হাত তালি দিতে দিতে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন মাঠ থেকে। ধটনা এখানেই শেষ হতে পারত। এসময় আবাহনীর সমাথকরা সাকিবকে কটু করে কিছু একটা বলেন তারপর সাকিবও তাদের ভাষায় জবাব দেন । এসব দেখে সাকিবের দিকে তেড়েফুড়ে আসেন আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। পরবর্তীতে দুজনকে নিজ নিজ দলের লোকজন আলাদা করেন।

sakib fight

আম্পায়ারের সঙ্গে সাকিবের বিতর্ক

তবে ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আগের ওভারে। ওই সময় সাকিব বল করছিলেন এবং মুশফিক ব্যাটিং এ ছিলেন, মুশফিকের কাছে একটি করে চার-ছক্কা হজম করেছিলেন এরপর শেষ বলটা দারুণভাবে ভেতরে ঢুকিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব। ব্যাটসম্যান মুশফিক পুরোপুরি পরাস্ত হন। এলবিডাব্লিউ এর জন্য জোরালো আবেদন করেন সাকিব কিন্তু তাতে সাড়া দেন নি আম্পায়ার। সাদা চোখে সেটাকে এলবিডাব্লিউ বলেই মনে হয়েছিল সবার, কিন্তু কেন আউট দেন সেইটা একমাএ আম্পায়ার নিজে বলতে পারবেন। এরপর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে ক্ষিপ্ত হয়ে লাথি মারেন স্টাম্পে! পরের ওভারে যখন আম্পায়ার হুট করে খেলা বন্ধ করে কভার ডাক দেন তখন সাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে ফের স্টাম্প তুলে আছাড় মারেন!

মিরপুরে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচে ঘটে গেল এমন অনাকাঙ্খিত, বিশৃঙ্খল ঘটনা। আবাহনী-মোহামেডানের মধ্যে এইরকম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার ম্যাচ শেষ কবে হয়েছে তা দর্শকরা ভুলেই গেছে। অবশেষে ম্যাচ জিতে যায় মোহামেডান। ৮৩ মিনিট পর খেলা শুরু হলে ৯ ওভারে মোহামেডানের লক্ষ্য ছিল ৭৬। ৩১ রানের পরাজয় নিয়ে লিগের দ্বিতীয় হারের তিক্ত স্বাদ অনুভব করে আবাহনী। টানা তিন ম্যাচ হারের পর জয়ে ফেরে সাকিবের আল হাসানের মোহামেডান।

mohamedan win

সেই ২০১৬ সালে আবাহনীকে হারিয়েছিল মোহামেডান। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই আবার সেই জয়ের স্বাদ মিলল। এবার মুখে হাসি ফুটল তাদের। সাকিব তাদের মুখে হাসি ফুটালেও বিতর্কিত দুই ঘটনায় নিজে ‘খলনায়কও’ হয়েগেলেন। মিরপুরের মাঠ তার আরেকটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের সাক্ষী হয়ে রইল।

sakib batting

তবে এই ম্যাচের মধ্যদিয়ে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৭ বলে ৩৭ রান তুলেছেন এবং এটি ছিল দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান। এছাড়া ওপেনিংয়ে পারভেজ হোসেন ইমন ২৬ এবং শেষ দিকে মাহমুদুল হাসান ৩০ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

taskin boaling

এর আগের ম্যাচে শুভাগত হোম ব্যাট হাতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন। আর এই ম্যাচে বোলিংয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। প্রথম ওভারেই নাঈম শেখ ও স্বাধীনকে বোল্ড করেন শুভাগত হোম। পরের ওভারে আফিফ হোসেনকে আউট করেন। বৃষ্টির পরে মুশফিক ও শান্ত লড়াই করলেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি। এছাড়া এই ম্যাচে তাসকিন ২ ওভারে ৫ রান দিয়ে পেয়েছেন ২টি উইকেট। আবু জায়েদ ১ ওভার বল করে পেয়েছেন ১টি উইকেট।

দীর্ঘ ৫ বছর পর আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের জোরালো জয়। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের যে ঐতিহ্য তা স্মরণ করলে মোহামেডানের জন্য আজকের দিনটি নিসন্দেহে অনেক স্মরণীয়, অনেক আনন্দের। তবে বিতর্কিত ঘটনায় দিনটা বিষাদময় হয়ে উঠল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *