ভারতে ওমিক্রন শনাক্ত, আক্রান্ত ২

Omicron in India | ভারতে ওমিক্রন

ভারতে দুই জনের দেহে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে তাঁরা কর্নাটকের বাসিন্দা। তাঁদের একজনের বয়স ৪৬ এবং অপরজনের বয়স ৬৬।

আশঙ্কার মেঘ অনেক আগেই ঘনিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আটকানো যায় নি। দেখতে দেখতে এবার ভারতেও ধরা পড়ল ওমিক্রন (Omicron in India) ৷ ওমিক্রন সংক্রমিত ৩০তম দেশের তালিকায় উঠে এল ভারত এর নাম ৷

তাঁদের দু’জনের মধ্যে এক জন ইতিমধ্যে দুবাই চলেও গিয়েছেন ৷ আক্রান্ত দু’জনের মধ্যে মারাত্মক কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি, তাই আতঙ্ক না ছড়ানোর জন্য বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ৷

ওমিক্রন পরীক্ষা

বৃহস্পতিবার কর্নাটকে ৪৬ ও ৬৬ বছরের দুই রোগীর মধ্যে ওমিক্রনের উপস্থিত সনাক্ত হয় ৷ নিরাপত্তার কারণে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয় নি ৷ তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬৬ বছর বয়সি আক্রান্ত রোগী একজন বিদেশি নাগরিক ৷

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার প্রমাণ রয়েছে । গত ২০ নভেম্বর (শনিবার) কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়েই বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে অবতরন করেন ওই ব্যাক্তি । সেখানে স্ক্রিনিং এবং পরীক্ষা হয় তাঁর । সেই মতো হোটেলে চেক ইন করেন অই ব্যাক্তি।

এরপর বিমানবন্দেরর রিপোর্ট এলে দেখা যায় তিনি ওমিক্রন পজিটিভ । উপসর্গ না থাকায় হোটেলেই নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয় তাঁকে । এরপর ২২ নভেম্বর তাঁর জৈব নমুনা পাঠানো হয় জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য ।

কিন্তু সরকারী পরীক্ষায় ভরসা না করে ২৩ নভেম্বর একটি বেসরকারি ল্যাবে আলাদা করে করোনা পরীক্ষা করান আক্রান্ত ওই ব্যক্তি । তাতে রিপোর্ট নেগাটিভ আসে।

এরপর, প্রত্যক্ষ ভাবে তাঁর সংস্পর্শে আসা ২৪ জন এবং পরোক্ষভাবে তাঁর সংস্পর্শে আসা ২০৪ জনের পরীক্ষা করা হয় এবং রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর পর ২৭ নভেম্বর মধ্যরাতে ট্যাক্সি নিয়ে বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন ওই ব্যাক্তি ।

ওপরদিকে, দ্বিতীয় আক্রান্ত ব্যাক্তি বেঙ্গালুরুতেই কর্মরত একজন স্বাস্থ্যকর্মী । ২১ নভেম্বর জ্বর অনুভব করে, গায়ে ব্যথা হয়। পরের দিন সকালে তিনি হাসপাতালে পরীক্ষা করান, রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সিটি ভ্যালু কম থাকায় তাঁর জৈব নমুনা পাঠানো হয় জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য । এরপর কয়েক দিন বাসায় বিশ্রাম নিয়ে ২৫ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি । ২৭ নভেম্বর বাড়ি ফিরে যান ।

তাঁর সংস্পর্শে আসা ৫ জনের পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ।গত কয়েক দিনে আক্রান্ত দুই ব্যাক্তি যাঁর যাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে স্থানীয় প্রশাসন ৷ তবে দু’জনের অবস্থা্য স্থিতিশীল ৷ মৃদু উপসর্গ ছাড়া তেমন কোন গুরুতর সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ৷

দিল্লিতে সাংবাদিকদের নিয়ে করা বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বলেন, ‘‘ভারতে দু’জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত ৷ দু’টি সংক্রমণই কর্নাটকে ৷ কোনও মারাত্মক উপসর্গ নেই এখনও পর্যন্ত ৷ আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই ৷ বরং সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন ৷ কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে ৷’’

এই পর্যন্ত বিশ্বের ৩০টি দেশে ৩৭৩ জনের মধ্যে ওমিক্রন (COVID Variant Omicron) ভ্যারিয়েন্ট মিলেছে ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে করোনার এই নয়া রূপ ইতিমধ্যে ৫০ বারেরও বেশি চরিত্রবদল করেছে এবং তার প্রোটিন স্পাইক ৩২ বার চরিত্রবদল করেছে ৷ এজন্য ডেল্টাকে করোনার মধ্যে সবথেকে ভয়ঙ্কর রূপ বলে চিহ্নিত করা হলেও, ওমিক্রন তার চেয়েও বেশি সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে ৷

করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য ইতিমধ্যেই দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাকসিন নিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নতুন এই ভ্যারিয়্যান্টকে রুখতে কতটা কার্যকরী হবে এই দুই টিকা?

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী?

ICMR-এর অতিমারি বিভাগের প্রধান ডা: সমীরণ পাণ্ডা বলেন, ‘Omicron-এর উপর mRNA ভ্যাকসিন কাজ না করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু, সব ভ্যাকসিন সমান নয়। সম্পূর্ণ অন্য অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে দেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড।’

অর্থাৎ এই ভ্যাকসিন দুটি কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। ডা: সমীরণ পাণ্ডা আরও জানান, ‘করোনার নতুন স্ট্রেনের গঠনগত পরিবর্তন হয়েছে। এখনও এই ভ্যারিয়্যান্টটি নিয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এর জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ওমিক্রন এর উপসর্গ

দক্ষিণ আফ্রিকার এক চিকিৎসকের মতে, করোনার পূর্বের ভ্যারিয়েন্টে যেমন স্বাদ, গন্ধ চলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিত কিন্তু এইটার উপসর্গ ভিন্ন। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের দেহে ক্লান্তিভাব অনেক বেশি থাকে। এছাড়াও গলা ব্যাথা, শুকনো কাশি, পেশীতে ব্যাথা, এই রকম উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। গায়ে হালকা জ্বর জ্বর থাকে।

তবে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়া শুধু যে ভয়ের লক্ষণ একথা মানতে নারাজ গবেষকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, ‘ ডেল্টা ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণে করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীরে একাধিক উপসর্গ দেখা যেত। এই ভ্যারিয়্যান্ট অত্যন্ত ঘাতক বলে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, ওমিক্রণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঠিকই, কিন্তু, আক্রান্তের দেহে অনেক কম উপসর্গ দেখা যায়। এদিকে ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে ডেল্টার পরিবর্তে ওমিক্রনকে জায়গা করে দেওয়া যেতে পারে। এটি একটি পজিটিভ খবর।’

করোনার তৃতীয় ঢেউ সামলে মানুষ যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময় করোনার নয়া রূপ ওমিক্রন, বিজ্ঞানসম্মত নাম বি.1.1.529 (B.1.1.529)-এর (COVID Variant B.1.1.529) দেখা দেয় ৷ আফ্রিকাতে সনাক্ত হওয়া এই নতুন রুপ ৩০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ৷ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সব দেশ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতেছে।

আরও পড়ুনঃ
‘ওমিক্রন’ কতটা বিপজ্জনক?
বাঙ্গি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *