শাবনূরের চোখে সবচেয়ে স্মার্ট রিয়াজ-ফেরদৌস

একটা বিতর্ক প্রায় শোনা যায়, ঢালিউডের অনেক নায়কের ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার পেছনে শাবনূরের অবদান আছে। বিশেষ করে রিয়াজ-ফেরদৌস প্রসঙ্গ উঠলেই বিতর্কটা আরো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে, শাবনূরের কাঁধে ভর করে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

 

তবে শাবনূর এটা মানতে নারাজ। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের এই দুই জনপ্রিয় নায়ক নিজেদের যোগ্যতায় চলচ্চিত্রে নিজস্ব জায়গা করে নিতে পেরেছেন।

 

শাবনূর বলেন, এই বিতর্কের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটা একদম ঠিক না। আমার সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট নায়ক রিয়াজ ও ফেরদৌস। তাদের কথা বলার ধরন, আচরণ- সবকিছুই আকর্ষণীয়। দুজন অসম্ভব মেধাবী। তারা নিজ যোগ্যতায় আজকের অবস্থানে এসেছেন। অভিনয় ছাড়াও রিয়াজ-ফেরদৌস দারুণ উপস্থাপনাও করেন।

 

তিনি আরো বলেন, তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে পরিচালক এসে আমার কাছে জানতে চাইতেন, ছবিতে নায়ক হিসেবে কাকে নেওয়া যায়- আমি তখন রিয়াজ বা ফেরদৌসের নাম বলতাম। এর একমাত্র কারণ, তাদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়া ভালো। কাজের ক্ষেত্রে প্রচুর হেল্পফুল।

 

নব্বই দশকে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন শাবনূর। সালমানের মৃত্যুর পর শাবনূর-রিয়াজ জুটি গড়ে ওঠে। ফেরদৌসের সঙ্গেও জুটি বাঁধেন তিনি। এছাড়াও আরো অনেকের সঙ্গে অভিনয় করেছেন শাবনূর।

 

সালমান-পরবর্তী শাবনূরের কাছে সেরা জুটি কোনটি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিয়াজ ও ফেরদৌসের সঙ্গে জুটি হয়ে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। এই দুজনের সঙ্গে আমার জুটিটা পছন্দের। এছাড়া অমিত হাসান, ওমর সানি এবং সবশেষ শাকিব খানের সাথে জুটি হয়ে কাজ করেছি। তাদের সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পেয়েছি। তবে আমি রিয়াজ-ফেরদৌসকে এগিয়ে রাখব।

 

শাবনূর এখন সিনেমা থেকে স্বেচ্ছানির্বাসনে। একমাত্র ছেলে আইজান নেহানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। দেশটির নাগরিক তিনি। বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মাঝে দেশে আসেন। কাজ শেষে আবার উড়াল দেন নতুন ঠিকানায়।

 

তবে দেশে থাকা শাবনূরের অনুরাগীদের প্রত্যাশা, আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াক তাদের প্রিয় নায়িকা। শাবনূরও সেটা চান। একটা ভালো গল্পের অপেক্ষায় তিনি। ভালো লাগার কোনো চরিত্র পেলে ফিরতে পারেন লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের দুনিয়ায়।