রেখে গেলেন শখের স্বর্ণ

বলিউডে ডিস্কো মিউজিক মানেই যার কথা সবার আগে মনে পরে তিনি হলেন বাপ্পি লাহিড়ি। টালিউড-বলিউডে দাপটের সঙ্গে বছরের পর বছর রাজত্ব করেছেন এই সুর সম্রাট। তার হঠাৎ না ফেরার দেশে চলে যাওয়া যেন ম্লান করে দিয়েছে গোটা সঙ্গীতপ্রেমীদের। 

 

গেলো মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (ওএসএ)’-তে আক্রান্ত হয়ে তিনি সবাইকে ছেড়ে চলে যান অপারে। তবে এই কিংবদন্তির নিজের সঙ্গীত ছাড়া আরও যে জিনিসে সকলের মনে অমলিন থাকবে তা হল বাপ্পি লাহিড়ির স্বর্ণ সংগ্রহ ৷ তার স্বর্ণের প্রতি প্রেম সকলেরই জানা, বাপ্পি লাহিড়িকে যখনই দেখা গেছে তার গলায় অসংখ্য স্বর্ণের চেন , হাতে স্বর্ণের বিভিন্ন অলংকারসহ তাকে দেখা গেছে৷ 

 

বাপ্পি লাহিড়ির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ মিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি টাকার সম্পত্তি। তার মাসিক আয় ২০ লাখ টাকা এবং বাৎসরিক আয় ২ কোটি টাকারও বেশি ছিলো। বিভিন্ন মিউজিক কম্পোজিশনের পাশাপাশি স্টেজ শো-থেকে প্রচুর আয় করতেন। তিনি সিনেমার একটা গানের জন্য ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। এই তথ্য কার নলেজে-২০২১ -র হিসাব অনুযায়ী।

 

তার গয়না ছাড়াও দামি গাড়ির প্রতিও দারুণ আকর্ষণ ছিলো। মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে ২০০১ যে বাড়ি কেনেন, তার মূল্য ৩.৫ কোটি টাকা। বাপ্পি লাহিড়ির ৫টি দামি গাড়ির মধ্যে বিএমডাব্লু, আউডিও ছিলো। ৫৫ লাখ টাকার টেসলা গাড়িও ছিলো তার। 

 

১৯৭০ থেকে ৮০-এর দশকে হিন্দি ছায়াছবির জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপ্পি লাহিড়ি। হিন্দিতে ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’, বাংলায় অমর সঙ্গী, আশা ও ভালোবাসা, আমার তুমি, অমর প্রেম প্রভৃতি ছবিতে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান। ২০২০ সালে তার শেষ গান ‘বাগি-৩’ এর জন্য। 

 

১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাপ্পি। তারপর দীর্ঘদিন বাংলা ও হিন্দি ছবির গান গেয়েছেন, সুর দিয়েছেন। প্রচুর সোনার গয়না পরতে ভালোবাসতেন। ছিল গায়কির নিজস্ব কায়দা, যা তাকে হিন্দি ছবির জগতে অনন্য পরিচিতি দিয়েছিল।

 

বাপ্পি লাহিড়ি ১৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে স্থানান্তরিত হন। ১৯৭৩ সালে হিন্দী ভাষায় নির্মিত নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম সংগীত রচনা করেন। এরপর তাহির হুসেনের জখমী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এতে তিনি গান রচনাসহ গায়কের দ্বৈত ভূমিকায় অংশ নেন। অসম্ভব কিছু নয় শিরোনামে মোহাম্মদ রফি এবং কিশোর কুমারের সঙ্গেও দ্বৈত সঙ্গীতে অংশ নেন। 

 

এরপরের চলচ্চিত্র হিসেবে চালতে চালতে ছবিটির গানও দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। রবিকান্ত নাগাইচের সুরক্ষা ছবিতে গান গেয়ে সঙ্গীতকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পান।