‘আমি চাচ্ছিলাম এখানে আমার অভিষেকটা খুব ভালোভাবে হোক’

By | March 9, 2022

বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমান সময়ে ছোট পর্দার অন্যতম আলোচিতমুখ মেহজাবিন চৌধুরী। শুধু রূপে-গুণেই নন, অতিমানবীয় অভিনয়ে অনেক সংলাপই তার মুখে জীবন পায়। লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসেন শোবিজ অঙ্গনে। সাবলীল অভিনয়ে হয়ে ওঠেন খন্ড নাটকের অপরিহার্য অংশ। বিগত চার-পাঁচ বছর ধরে দেশীয় নাটকে নিজের অবস্থান শিখরে রেখেছেন মেধাস্বত্ব দিয়েই। বছর কয়েক আগে তার ‘বড় ছেলে’ নাটকটি দেশীয় নাট্যাঙ্গনে অনন্য রেকর্ড গড়ে। বিশেষ করে সম্প্রিত সময়ে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা দেন তিনি। একের পর এক ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।টিভি নাটকের শীর্ষ অবস্থান করূ এই অভিনেত্রীকে এবার দেখা যাবে ওটিটি প্লাটফর্ম রিলিজে।আর এ ওয়েব সিরিজটির নাম ‘সাবরিনা’। এটি নির্মাণ আশফাক নিপুণ।ওয়েব সিরিজ ‘সাবরিনা’ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিঘণ্টা ডটকমকের সঙ্গে কথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীর।

আশফাক নিপুণের সঙ্গে নাটকে কাজ করেছেন।এবার নির্মাতা তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

মেহজাবিন চৌধুরী: আমি তো সবসময় বলি বাংলাদেশে যদি তিনজন পরিচালকের নাম বলতে বলা হয় তাহলে তার নাম বলতে হবে। ওনার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময় ভিন্ন হয়। ভিন্ন বলতে ভিন্ন ধরণের গল্পে কাজ করা হয়। আমাকে যে-ই ভালো গল্প দিতে পারে তার প্রতি সবসময় সহানুভূতি কাজ করে। সে জায়গাতে আশফাক নিপুণ অবশ্যই একশতে একশ।আর ভালো কাজের জন্য ভালো বাজেট দিতে হয়। আর বাজেট ভালো থাকলে কাজটা আরামে করা যায়। যদিও আমরা খুব একটা আরামে কাজটা করতে পারিনি। আমাদের যে ডেডলাইনের পিছনে দৌঁড়াতে হয়, তা না হলে হয়তো কাজটা আরও ভালো করে করা যেত।

এবার যেহেতু বড় পরিসরে কাজটা হয়েছে তাই বেশ ভালো পরিবর্তন দেখতে পেয়েছি তার মাঝে। আমি সবসময় টিমওয়ার্কে বিশ্বাস করি। বেশ দারুণ ছিলো পুরো ব্যাপারটা।

ওটিটি প্লাটফর্মে আপনার পথচলাটা শুরু করতে এত দেরি করলেন কেন?

মেহজাবিন চৌধুরী:যাঁদের সঙ্গে আমি নাটকে অভিনয় করি, তাঁরা অনেক আগেই ওটিটি কনটেন্ট করে ফেলেছেন। কিন্তু আমি সময় নিচ্ছিলাম। কারণ আমি চাচ্ছিলাম, আমার ডেব্যুটা খুব ভালো কাজ দিয়ে হোক। এমন চরিত্র দিয়ে শুরু হোক, যেটি দর্শক অনেক দিন মনে রাখবেন।

এর আগে ‘রেডরাম’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছেন। সেটিতে কেমন সাড়া পেলেন?

মেহজাবিন চৌধুরী :যতটুকু আশা করেছিলাম, তার চেয়েও বেশি রেসপন্স পেয়েছি। সারা দিন পরিশ্রম করে দর্শক দিন শেষে বাসায় এসে হালকা কিছু দেখতে পছন্দ করে। আমি নিজেও এটা করি। কমেডি বা রোমান্টিক কমেডি এগুলোর দর্শক আগে থেকেই বেশি। ‘রেডরাম’ সে জায়গা থেকে একেবারেই আলাদা, ডার্ক গল্প। তারপরও অনেকেই এটা দেখেছেন। এই যে ভিন্ন ধরনের কনটেন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, এটা অনেক পজিটিভ।

যেভাবে আপনাদের কাজের সিডিউল থাকে, তাতে করে দ্রুত এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে মানিয়ে নেন কিভাবে?

মেহজাবিন চৌধুরী:পর্দায় দেখে কি মনে হয়? আমার মনে হয় একেকজনের একেক ধরণের কৌশল থাকে। এখন ওপেনলি শেয়ার করতে পারবো না। কিভাবে আমরা শিল্পীরা, শুধু আমি না সবাই— আমাদের প্রেক্ষাপটে ২-৩ দিনে একটা নাটকের শুটিং করে পরেরদিন আরেকটায় ঢুকে যেতে হয়…। আমি তো সব সময় বলি আমাদের মতো পরিশ্রমী শিল্পী পৃথিবীর কোথাও নেই। এ জায়গায় আমরা হলিউডের কাউকে চ্যালেঞ্জ করতে পারি। আমি বলবো আমরা অনেক পরিশ্রমী। এ কারণে আমরা হয়তো অনেকটাই সফল।

টিভি নাটকের পরে ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য কাজ করলেন।বড় পর্দায় কবে দেখতে পাবো?

মেহজাবিন চৌধুরী:আমি মাধ্যমের থেকে ভালো গল্প করতে বেশি পছন্দ করি। আজ থেকে দশ-বারো বছর আগেও জানতাম না, অভিনয় করবো। কিন্তু আজকে এ পর্যায়ে চলে আসছি, আপনাদের দোয়ায়, ভালোবাসায়। অভিনয়টা পেশা হিসেবে নিতে পেরেছি। বিশ ত্রিশ বছর আগেও পারা যেত না। সাথে অন্য আরও কাজ করা লাগত। সে সুযোগটা, সময়টা চলে এসেছে। আমরা ভাগ্যবান। সে জায়গা থেকে ভালো গল্প হোক না কেন, আমি থাকতে চাই। আমি মাধ্যমটা অতটা গুরুত্ব দিতে চাই না। আমি যদি বড় পর্দার পিছনে দৌড়াই, তাহলে টিভির ভালো গল্পের কাজ ছুটে যাবে। যখন সময় হবে তখন আমি বড় পর্দায়ও কাজ করতে পারি। হ্যাঁ, তার জন্য ভালো গল্প আসতে হবে। আমার মনে হয়, বড় পর্দায় কাজ করার চাইতে, বড় পর্দায় ভালো গল্পে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ওটিটিতে আমি অনেক দিন ধরে কাজ করছিলাম না, আমার সঙ্গের অনেকেই করে ফেলেছেন। আমি সময় নিচ্ছিলাম। কারণ, আমি চাচ্ছিলাম এখানে আমার অভিষেকটা খুব ভালোভাবে হোক। আমার চরিত্রটা মানুষ মনে রাখুক। সে চেষ্টায় আমি সবকিছুই ধীরে সুস্থে করি। কিন্তু যখনই করি তখন চেষ্টা করি একশভাগ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *