‘দিন দ্য ডে’ টিকিট নিয়ে হূড়াহুড়ি,মধুমিতার নওশাদের মুখে হাসি

এবার ঈদে সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে অনন্ত-বর্ষা অভিনীত বহুল-আলোচিত সিনেমা ‘দিন: দ্য ডে’। সর্বাধিক ১০৭টা সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ‘দিন: দ্য ডে’। অনন্ত-বর্ষা অভিনীত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি এরই মধ্যে নানা আলোচনায় মুখর।

চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিলের দাবি ১০০ কোটি টাকা দিয়ে ‘দিন: দ্য ডে’ বানিয়েছেন। বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা চমক বলা যায়। এখানে ১ কোটি টাকা বাজেটের সিনেমার লগ্নি তুলতে প্রযোজকেরা হিমশিম খান, তাই অনন্তর এই উদ্যোগকে সিনেমার প্রতি তাঁর ‘ডেডিকেশন’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে, সাধুবাদও জানাচ্ছেন।

বর্তমানে ঢাকার অভিজাত সিনেমা হল মধুমিতায় প্রদর্শনী হচ্ছে ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমাটি।হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের দাবি তার সিনেমা হলে দর্শক ফিরিয়েছে ঈদের ‘দিন দ্য ডে’ ছবিটি। 

তিনি বলেন,‘ঈদুল ফিতরে সিনেমা দেখার জন্য দর্শক যেভাবে জাকিয়ে বসে ঈদুল আজহায় সেটা হয় না, তবে ধীরে ধীরে বাড়ে। এবারও তাই হয়েছে- ধীরে ধীরে দর্শক বাড়ছে। হয়তো উপচে পড়ছে না, তবে রিপিট দর্শক প্রচুর দেখেছি। আর সিনেমার বড় একটা বিষয় হচ্ছে রিপিট দর্শক। তাদের রিভিউয়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। অন্য হলগুলোর অবস্থা বলতে পারবো না-আমার হলে এমন চিত্রটা দেখেছি।

রিপিট দর্শক কোন শ্রেণির এমন প্রশ্নের জবাবে নওশাদ বলেন, তরুন প্রজন্ম। যারা আধুনিকায়ন পছন্দ করছে। তারা দেশী সিনেমায় হলিউডি সিনেমার স্বাধ নিতে চান। নিজেদের সেভেবে প্রস্তুত করছেন বলে আমার বিশ্বাস। এ সিনেমায় দুর্দান্ত সব অ্যারেজমেন্ট বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বিস্ময়কর। যদিও সিনেমাটিতে অনন্ত জলিল এবং বর্ষার অভিনয়, কথার উচ্চারণ নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। যতদূর মনে হয়েছে তারা আগের থেকে অনেক পরিণত। তারা অনেক বেশি ডেডিকেটেড। কিছু ঈর্ষাকাতর লোকজনের কাজই হচ্ছে কুৎসা রটনা করা। এ কথা সত্য অনন্ত জলিল চাইলে নতুনদেরও সুযোগ করে দিতে পারেন, সেটা করলে আমাদের প্রমিজিং আর্টিস্টও তৈরি হতে পারে। সবদিক মিলিয়ে সবার উদ্দেশ্যে এতটুকু বলবো -ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ‘দিন দ্য ডে’ উপভোগ করুন। 

সিনেমাটির ব্যবসা প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, কোরবানির দিন বাদে প্রায় সব শোতেই দর্শক পাচ্ছি। আশা করছি প্রযোজক পয়সা পাবেন, আমিও আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো।

“দর্শক সমাগমের অন্যতম কারণ হলের পরিবেশ। মধুমিতার মতো অন্যসকল সিনেমা হলের পরিবেশ থাকলে হয়তো যেকোনো সিনেমাই ভালো চলতো। দিন শেষে দর্শক টাকা দিয়ে কষ্ট ভোগ করতে আসবে কেন, তাই হলের পরিবেশ ঠিক করা জরুরি”- যোগ করেন ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ।

তাহলে কী হলের পরিবেশ ‘দিন দ্য ডে’র জন্য প্রতিবন্ধকতা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নওশাদ বলেন, মধুমিতার যে মান সেটার সঙ্গে দিন: দ্য ডে যায়। মধুমিতা শুরু থেকে এখনো দর্শকের কথা মাথায় রেখে হল সাজিয়েছে। তাই পরিবেশের কারণেই আমাদের নিয়মিত দর্শকশ্রেণি আছে। ফলে প্রযোজকদের পছন্দের শীর্ষে মধুমিতা। এ ধারাটা অন্য সিনেমা হলগুলো ধরে রাখেনি, ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। হলের পরিবেশটা হল মালিকদেরই ফেরাতে হবে বলে মত দেন এই অভিজ্ঞ হল মালিক।

এদিকে, ‘দিন দ্য ডে’ মুক্তির দিন থেকেই দর্শকের আগ্রহ বেড়েই চলছে। টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশাও প্রকাশ করেছেন এবং সিনেমার শোয়ের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দর্শকরা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে সিনেমাটির শোয়ের সংখ্যা বাড়াচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন অনন্ত জলিল নিজেই।

এ বিষয়ে অনন্ত জলিল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘সিনেপ্লেক্সগুলো দর্শকের ঢল সামলাতে পারছে না।  এ কারণে আগামীকাল শুক্রবার থেকে বসুন্ধরা সিটি, সনিতে একটা করে স্ক্রিন বাড়ছে। আমি হলে হলে যাচ্ছি। শত শত দর্শক টিকেট না পেয়ে ফেরত গিয়েছেন। এটা কষ্টের। তবে শোয়ের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে আমাকে জানিয়েছে সিনেপ্লেক্স।’

‘দিন দ্য ডে’ সিনেমায় অনন্ত জলিলকে আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা গেছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসগোষ্ঠী দমনে অভিযানে অংশ নেন তিনি।

সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম। বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, তুরস্ক ও আফগানিস্তানে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।