ভ্রমণে সঙ্গে যা যা থাকা উচিত

By | July 4, 2022

অনেক দিন হয়তো পরিকল্পনা করছেন শহর ছেড়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাবেন। পরিকল্পনা শেষে প্রয়োজনীয় সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যাবার দিনটিও চলে এলো। ১০ ঘণ্টার লম্বা যাত্রাপথ। কাঁধে বিশাল ব্যাগ নিয়ে এবং মুখে মাস্ক পরে ভ্রমণ কতটা আনন্দদায়ক বা স্বস্তিদায়ক হবে, তা অবশ্য নির্ভর করবে সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই।

 

ট্রাভেল ব্যাগ

ট্রাভেল ব্যাগ কেনার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত। প্রথমত ব্যাগের আকার আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই হতে হবে। ওয়াটারপ্রুফ হলে ভালো। ব্যাগের চেইন খোলা ও বন্ধ করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করলে তা ভালো থাকবে। বাড়তি সতর্কতায় লক রাখাটাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ব্যাগের কাঁধের স্ট্র্যাপগুলো আরামদায়ক কি না, তা দেখে বাছাই করা উচিত।

 

সহজে বহন করার মতো, আরামদায়ক এবং একাধিক উপায়ে বহনের উপায় থাকলে ভালো। ওয়াটারপ্রুফ ব্যাকপ্যাক পাওয়া যাবে বিভিন্ন অনলাইন পেইজ অথবা স্পোর্টস শপগুলোতে। এ ধরনের ব্যাগের মূল্য হতে পারে ৩-৪ হাজার টাকা।

 

তাঁবু

ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনার তাঁবু প্রয়োজন হতে পারে। তাঁবু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ৪টি বিশেষ বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত-আকার বা বহন করতে কতটুকু জায়গা লাগে, ওজন, ভেতরের জায়গা এবং কোন ঋতুতে ভ্রমণে যাচ্ছেন।

 

রাতে কতজন ঘুমাবে সেই অনুযায়ী তাঁবু বাছাই করা উচিত। ক্যাম্পিং তাঁবু কিনতে পারবেন বিভিন্ন অনলাইন পেজ অথবা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে। এগুলোর মূল্য হতে পারে ৪-৭ হাজার টাকার মধ্যে। তবে বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে দাম কমবেশি হতে পারে।

 

বুটজুতা

পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের জন্য বা হাইকিংয়ের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণ বুটজুতা। যথেষ্ট পুরু ও মজবুত সোলের শক্ত হাইকিং বুট ভ্রমণের জন্য উপযোগী। ভালো মানের হাইকিং বুট ব্যবহার করলে লম্বা সময় ধরে হাঁটাহাঁটি করলেও পায়ে ব্যথা অনুভব হবে না।

 

হাইকিংয়ের জন্য ভালো বুট কিনতে খোঁজ করতে পারেন অনলাইন বাজারে। এ ধরনের জুতার দাম হবে আনুমানিক ২-৩ হাজার টাকা।

 

পানির বোতল

যে কোনো ট্রেকিং বা হাইকিংয়ে পরিমিত পানি পান করা প্রয়োজন হয়। তাই পানির বোতল সঙ্গে থাকা বাঞ্ছনীয়। ভ্রমণে যেনতেন বোতল নেওয়া ঠিক নয়। ভালো মানের ফুড গ্রেডসম্পন্ন লিকেজ প্রুফ বোতল বাছাই করে কিনে নিন ট্রেকিংয়ের জন্য। এসব বোতল বাজারে অহরহ পাওয়া যাবে। দাম হতে পারে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

 

সানগ্লাস

ট্রেকিং কিংবা হাইকিংয়ে গেলে একটা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়। সুতরাং সানগ্লাস সঙ্গে থাকা অতি জরুরি। উন্নতমানের সানগ্লাস আপনাকে দুপুরের রোদে সবকিছু স্পষ্ট দেখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আপনার চোখ সুরক্ষিত রাখবে। হাইকিং সানগ্লাস এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে অনলাইন বাজারে।

 

স্মার্টঘড়ি

যারা হাইকিং পছন্দ করেন তাদের হাতে অবশ্যই থাকা চাই স্মার্টঘড়ি। স্মার্টঘড়িগুলো জিপিএস সম্পন্ন হওয়ায় ট্রেকিংয়ের সুবিধা হয়। এছাড়া স্থানীয় নেভিগেশনে সরবরাহ করে স্মার্টওয়াচ। এসব ঘড়ি ওয়াটারপ্রুফ এবং দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফসম্পন্ন হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দামের স্মার্টঘড়ি বাজারে পাওয়া যায়। তবে মোটামুটি উন্নত মানের স্মার্টঘড়ির দাম পড়বে ৫ হাজার টাকা।

 

ফিচার ফোন

ফিচার ফোনগুলো স্মার্টফোনের তুলনায় কম জটিল ও সস্তা। ভ্রমণের জন্য এই ধরনের ফোন বেশি উপযোগী। ফিচার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ অনেক বেশি থাকে। পাশাপাশি এগুলো পর্যাপ্ত স্টোরেজ সম্পন্ন এবং টেকসই। ফিচার ফোন বাজারে খুঁজে পেতে বেশি সমস্যা হয় না। দাম পড়বে খুব বেশি হলে ৪ হাজার টাকা।

 

পাওয়ার ব্যাংক

হাইকিংয়ে গেলে যে অনেক সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের চার্জের সমস্যা হয়। তাই ট্র্যাকিংয়ের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়ার ব্যাংকটা নিতেই হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পাওয়ার ব্যাংকটি যেন হালকা ওজনের এবং উন্নত মানের হয়। পাওয়ার ব্যাংকের এর দাম হতে পারে ১-৩ হাজার টাকা।

 

ওয়াকিটকি

দলবল নিয়ে হাইকিংয়ে অথবা ট্রেকিংয়ে গেলে সঙ্গে ওয়াকিটকি থাকা জরুরি। ওয়াকিটকির মাধ্যমে দলের সব সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। পাহাড়ে বা প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরতে গেলে দলের কেউ যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য হাইকিংয়ের সময় ওয়াকিটকি ব্যবহার অনিবার্য।

 

ওয়াকিটকির মডেলের ওপর ভিত্তি করে যোগাযোগের পরিসর শত মিটার থেকে কয়েক মাইল দূরত্ব পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তবে রেডিও সিগন্যাল যেন পাহাড়ে আটকে না যায় তা নিশ্চিত করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশে ওয়াকিটকির ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিটিআরসির লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *