পদ্মা সেতু সোজা না হয়ে বাঁকা কেন

বহু আকাঙ্ক্ষার স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার (২৫ জুন)। যে জন্য বহু বছর দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিল কোটি মানুষ। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ঘিরে নদীর দুই পারেই সাজ সাজ রব। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগ দেবেন ১০ লাখ মানুষ।

 

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত ৬.১৫ কিলোমিটারের স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপরে বসেছে ৪১টি ইস্পাতের স্প্যান। বাংলাদেশের দীর্ঘতম এ সেতু বাঁকা হয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদীর ওপরে। কিন্তু কেন সোজা না হয়ে পদ্মা সেতু বাঁকা হলো। অনেকের ধারণা সেতুটি বাঁকা না হয়ে সোজা হলে এর দৈর্ঘ্য আরও কম হতো। কমতো প্রকল্পের ব্যয়।

 

 

আকাশ থেকে পদ্মা সেতু দেখলে বোঝা যায়, সেতুটি ডাবল কার্ভড। অর্থাৎ ডানে-বাঁয়ে দু’বার সামান্য বাঁকানো। এমনটা শুধু পদ্মা সেতুর বেলায় করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা জাপানে লম্বা লম্বা মহাসড়কও এভাবে বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

 

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল সৌন্দর্য রক্ষার্থে পদ্মা সেতুকে বাঁকা করে বানানো হয়েছে বিষয়টা এমন নয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছে করেই বাঁকা করে নকশা করেছেন।

 

বাঁকা হওয়া প্রসঙ্গে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মূলত সৌন্দর্য ও নিরাপত্তার কারণেই পদ্মা সেতু বাঁকাভাবে নির্মিত। বাঁকা করার ফলে চালক কিন্তু সাবধানে ড্রাইভ করবেন। সেতু সোজা হলে চালকের ঝিমুনি আসতে পারে, অনেক চালক হয়তো স্টিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে চালাতে পারেন।

 

উল্লেখ্য, ২৫ জুন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। পরে সেখানে মোনাজাত হবে। পরে সেতু দিয়ে পার হবেন পদ্মা নদী। জাজিরা প্রান্তে ফলক উন্মোচন করে যোগ দেবেন আওয়ামী লীগের জনসমাবেশে।