অভিযান শুরু হলেই পালিয়ে যাচ্ছেন চাল বিক্রেতারা

এ যেন ইঁদুর-বিড়াল খেলা। চালের বাজারে অভিযান শুরু হলেই পালিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। পরে আবারও বিক্রি হচ্ছে সেই বাড়তি দরেই। সপ্তাহ ব্যবধানে দাম আরও বেড়েছে মুরগিসহ বিভিন্ন মসলার। পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েও মাসের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।

 

বাজারে এ যেন শুধুই নিয়ম রক্ষার অভিযান। শুরু হলেই লুকিয়ে পড়ছেন বিক্রেতারা। এরপর চলে গেলে আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। কিছুতেই টানা যাচ্ছে না যার লাগাম। অভিযান নিয়ে বাগবিতণ্ডায়ও জড়াচ্ছেন কেউ কেউ। এবার সুগন্ধি চালের দর বেড়েছে কেজিতে আরো ১০ টাকা।

 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ব্যবসায়ীদের নীতি-নৈতিকতা মেনে চলা উচিত। উনাদের যদি কোনও সমস্যা না থাকে তাহলে পালিয়ে যাওয়ার কারণ নেই।

 

এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ আপনি ৫০ হাজার কেন, সব নিয়ে যান। আপনারা যদি ক্ষমতা খাটিয়ে নিয়ে যান, তাহলে হবে নাকি? আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা কী চোর না বাটপার। মামলা-মোকদ্দমা করে জেল খাটান। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। এগুলো কী শুরু করেছেন? এটা হয় না।’

 

মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আবারেও বেড়েছে। নাগালের বাইরে মসলার বাজার। সবকিছুই কম কম করে কিনেও স্বস্তি মিলছে না কিছুতেই। এক বিক্রেতা বলেন, সোনালি মুরগি বর্তমানে ২৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি লেয়ার ৩০০ টাকা। আর ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

 

এক ক্রেতা বলেন, প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় আয় বাড়ছে না। 

এক বিক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনও জিনিসের দাম বাড়েনি। তবে প্রতিটি পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থাৎ কমেনি।

 

তবে আরেক বিক্রেতা বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি জিরার দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। এরপর লবঙ্গে ৬০ টাকা, গোলমরিচে ৫০ টাকা, দারচিনিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।   

 

এদিকে সবজির সরবরাহ ভালো। কিছুটা দাম কমার তালিকায় রসুন। অপরিবর্তিত আদার দর। বাজেটের আগে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা ভোক্তাদের।