চলচ্চিত্রে ভালো প্রযোজক আসে না, আসে বালু-চাল ব্যবসায়ী : বাপ্পারাজ

কেপিআইভুক্ত এলাকায় সমিতি থাকবে কেন, এটা তো অবৈধ—অনেক আগে থেকেই এটা বলছিলাম। এখানে সমিতি কেন, দলাদলি কেন। অসুস্থ মানসিকতার জন্যই তো সমিতিকে ঘিরে বদমায়েশি হয়। ভালো লোকেরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে দেখি, এসব সমিতিতে বসে সারা দিন খোঁজে কার বিরুদ্ধে কী বলা যায়।

 

এফডিসির এসব সমিতিতে কারা যায়? সব বেকারেরাই কিন্তু যায়, যাদের কোনো কাজ নেই। ওরাই সেখানে গিয়ে গলাবাজি করে। আমি কাজ করে কূল পাই না, সেখানে গিয়ে অফিস করব, ঠেকা তো পড়েনি। গত মেয়াদে দুই বছরে মাত্র দুইবার গিয়েছিলাম। একবার শপথ করতে। আরেকবার অন্য একটা কাজে।

 

ওখানে গিয়ে শুনি, এরে দেইখা নিব, ওরে দেইখা নিব! আরে ভাই, এসব করার জায়গা তো এটা না। মোটকথা, এফডিসি থেকে সব সমিতি বের করে দিতে হবে, তাহলেই সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। কোনরকম অস্থিরতা থাকবে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত।-চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে কথাগুলো বলেন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা বাপ্পারাজ।

 

তিনি আরও বলেন, একটা কেপিআই ভুক্ত এলাকায় ভাড়া দিতে হয় না, সরকারি এই জায়গায় বিদ্যুৎ,গ্যাস সবই তো ফ্রিতে পাওয়া যায়। চারদিকে দেয়ালে ঘেরা নিরাপত্তাবলয়। সব মিলিয়ে নিরাপদ জায়গা। এত নিরাপদ জায়গা বিনা পয়সা পাওয়ায় এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা। সমিতির প্রতি তাদের যদি এতই ভালোবাসা থাকে, এফডিসি থেকে বের হয়ে অন্য জায়গায় ভাড়া নিয়ে চালাক না। তখন দেখবেন, কতজন গিয়ে সমিতির অফিস করে। তখন তো ভাড়া দিয়ে অফিস নিয়ে আজাইরা আলাপ করতে কেউ আসবে না।

 

এফডিসিতে দেখি সবাই গিয়ে বসে থাকে। মনে হয়, সবাই অফিস করতে আসছে। সবাই দলবেঁধে বইসা থাকে। টাকাপয়সা খরচের বিষয় এলে কোথায় যাবে অফিস, কোথায় যাবে এসব সমিতি, নেতাগিরি করার কেউই থাকবে না। আরেকটা বিষয়, চলচ্চিত্রের কাজ ছাড়া এসব সমিতির অনুষ্ঠানে টেলিভিশন ও পত্রিকার কাভারেজ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত, এটাতেও কাজ হবে।

 

শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানগুলোতে ক্যামেরা দেখলেই ফুল নিয়া ছোট–বড় সবাই দাপাদাপি করে। ক্যামেরা না থাকলে নিয়ম মেনে এমনি এমনি ফুল দেবে, এরপর চলে যাবে। ক্যামেরা থাকলে, ফুল দেওয়ার জন্য এ–ওরে ধাক্কা দেয়, ও আরেকজনরে ধাক্কা দেয়—এসবই তো চলছে। এখন সবাই চায় ধাক্কা দিয়ে হলেও যেন ছবি কিংবা ভিডিওতে নিজের চেহারা দেখানো যায়। এটাই তো আমাদের অনেকের অভ্যাস হয়ে গেছে।

 

এই অঙ্গন সম্পর্কে গণমাধ্যমে তিনি আরও বলেন, শিল্পীর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বিনয়, সেই বিনয়টাই কমে গেছে। শিল্পীরা কিন্তু মাস্তান হয় না, শিল্পীরা হয় বিনয়ী। এই ব্যাটা এফডিসির গেটে আয়, তোরে দেইক্যা লমু—এসব কোনো শিল্পীর ভাষ্য হতে পারে না। এটা হচ্ছে মাস্তানদের ভাষ্য। মাস্তান পার্টি এসে চলচ্চিত্রের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে।

 

বড় বড় চাল ব্যবসায়ী, বালু ব্যবসায়ী এসে গেছে দলবল নিয়ে চলচ্চিত্রে। ভালো প্রযোজক আসছে না। শিক্ষিত ও মেধাবী লোকজন তো এখন আর এফডিসিতে আসে না। কিছুদিন পরপর মাস্তান–মুস্তান টাইপের কেউ আসে, কয়েক দিন ফুর্তিপার্তি করে, ছবির মহরত করে—এরপর ওই ছবির শুটিংও হয় না, শেষও হয় না—এসবই চলছে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে!

 

কে কারে কয়টা কেস দেবে—এসবই চলছে। আরে ভাই, এখানে মামলা দেওয়ার কী আছে। মামলা দিলে সমিতি বানাইছো কেন? থানায় গিয়ে মামলা করে যদি শিল্পীদের সমস্যা সমাধান করতে হয়, তাহলে সমিতি বানাইছ কেন! সবাইকে দেখি এখন কথায় কথায় থানা–পুলিশ, আইন–আদালত করতে। এই তো শুনলাম, ওই দিন অরুণাও থানায় গিয়ে জিডি করেছে।

 

মালেক আফসারীর সমস্যা নিয়ে পরিচালক সমিতিতে অভিযোগ করলেই তো পারত। এত বড় বড় সমিতি বানিয়ে সবাই বসে রইছে সবার দেখভাল করার জন্য, তাহলে সেই সমিতির কাজ কী। তোমরা কি সমিতি বানাইয়া চান্দা খাও? এটার মীমাংসা সমিতি করতে পারল না কেন? শিল্পীরা থানায় যাবে কেন? আদালতে যাবে কেন? এফডিসির ভেতরে কিছু হলে আমরাই তো সমাধান করতে পারি। এসবের জন্য থানা–পুলিশ, আদালতের দরকার হয় নাকি?