বিগো-টিকটক-লাইকি নিষিদ্ধের রিট হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

Bigo Tiktok Likee Banned

যুব সমাজ ও তরুণদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিগো লাইভ, টিকটক, লাইকি মোবাইল অ্যাপসগুলো নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) এসেছে। সেই হিসেবে আদালত যদি চায় তাহলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই বিষয়টির ওপরে শুনানি হতে পারে।

রোববার (৬ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি বিচারপতি মো. কামরুল ইসলাম মোল্লা ও মো. মুজিবুর রহমান মিয়ার দ্বৈত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। সংবাদ মাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জে.আর খান রবিন।

যুব সমাজ ও তরুণদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গত ৩০শে ডিসেম্বর এই অ্যাপসগুলো নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। সেই রিটে এসব অ্যাপস কেনো বন্ধে করা হবেনা বা সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি বলে ঘোষণা করা হবে না মর্মেও প্রার্থনা করা হয়।

এই রিটে টেলিযোগাযোগ, ডাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজি পুলিশক, বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এই রিটটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান (রবিন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় করেন।

রিটের বিষয়ে আইনজীবী রবিন বলেন, ‘এই অ্যাপসগুলো তরুণদের বিপথগামী করছে। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রমে করছে, হয়ে উঠছে সহিংস। তরুণরা এউ অ্যাপসের মাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবতে শুরু করে।

রিটে বলা হয়েছে, বিগো লাইভ অ্যাপে তরুণ-তরুনীদের টার্গেট করে লাইভে এসে তাদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেয়া হয় এবং এরপরে তাদের যৌনতার ফাঁদে ফেলে কৌশলে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।

রিটে আরো বলা হয়, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অসখ্য তরুণ। এই অ্যাপটি একটি লাইভ স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, যেখানে একজন ব্যবহারকারী লাইভ মুহূর্ত শেয়ার করেন তার অনুসারীদের সঙ্গে। এই অ্যাপগুলোর ক্ষতিকর দিক পর্যালোচন করে প্রতিবেশী দেশ ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অসংখ্য তরুণ-তরুনীরা উদ্ভট রঙে চুল রাঙাচ্ছে এবং ভিনদেশি অপসংস্কৃতি অনুসরণ করে ভিডিও তৈরি করছে এবং তা টিকটক, লাইকি অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে রয়েছে সহিংস ও কুরুচিপূর্ণ অভিনয়। শুধু তাই নয় স্বল্পবসনা তরুণীরা টিকটকের অশ্লীল ভিডিওতে নাচ, গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি ধূমপান ও সিসা গ্রহণ করার ভিত্তিও শেয়ার করেছে।

‘চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এই ভিডিও গুলোতে কোনো ধরনের শিক্ষণীয় বার্তা নেই। উল্টো তরুণ পজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে। বিব্রতকর, অশ্লীল ও অনৈতিক ভিডিও বানানো হচ্ছে যা পর্নোগ্রাফিকে উৎসাহিত করছে এই জন্য ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় এই অ্যাপস গুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অ্যাপগুলোর মধ্যে এক ধরনের শো-অফ বিষয় থাকে যা তরুনদের আকৃষ্ট করছে । এসব কাজে সম্পৃক্ত হয়ে একদিকে যেমন তরুণ সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের পড়ালেখাতেও ক্ষতি হচ্ছে।

গত ৮ অক্টোবর, এই বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আইনজীবী রবিন জনস্বার্থে একটি নোটিশ পাঠান। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আইনজীবী রবিন রিট দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *